‘আবারও সাফ জিতে ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পেতে চাই’

২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে রচিত হয়েছিল নতুন ইতিহাস। নারীদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে প্রথবারের মতো ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ। ইতিহাস গড়া টুর্নামেন্ট জিতে দেশে ফিরে সাবিনা-সানজিদারা পেয়েছিল বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে সংবর্ধনা। নতুন বছরে আবারও সেই সুযোগ আসছে লাল-সবুজ দলের সামনে। অক্টোবরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পরের আসর বসতে যাচ্ছে। শিরোপা ধরে রেখে আবারও ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পেতে চাইছে সানজিদারা।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ছাড়াও বছরজুড়ে রয়েছে ফিফা প্রীতি ম্যাচ। সেগুলোতেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজেদের পারফরম্যান্সের মান আরও ওপরের দিকে নিতে যাওয়াটা তো রয়েছেই। তাতে করে ফিফা র‌্যাঙ্কিংও বাড়বে।

গেলো বছরটি সাবিনাদের জন্য একদম খারাপ কাটেনি। এশিয়ান গেমসে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও বছর শেষে র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরকে দেশের মাঠে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়েছে।

আসছে ফেব্রুয়ারিতে নতুন বছরের প্রথম পরীক্ষা হবে। ফিফা প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। বাফুফে চাইছে বছরটি সাফল্য দিয়ে রাঙাতে। বাফুফের নারী উইং কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ তো ঘোষণা দিয়েছেন, ‘এ বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। আমরা তা ঢাকায় আয়োজন করতে চাই। যে করেই হোক শিরোপা ধরে রাখতে হবে। এর জন্য সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সারা বছর জুড়ে যেন মেয়েরা ম্যাচ খেলতে পারে, সেই চেষ্টা করে যাবো।’

জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও চাইছেন সাফল্য ধরে রাখতে। এর জন্য নিজেদের চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখতে চাইছেন না। আগেই বলেছেন, ‘যেভাবে প্রস্তুতি চলছে তাতে করে আমরা ভালো ফল করার দিকে দৃষ্টি দিতেই পারি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ তো ধরে রাখতে হবে। এর জন্য আমাদের কঠোর পরিশ্রম ছাড়া বিকল্প নেই।’

আর যার ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে ছাদখোলা বাসে করে মেয়েরা সংবর্ধনা পেয়েছিলেন, সেই সানজিদা আক্তারও নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন, ‘দেখুন আমরা কাঠমান্ডুতে শিরোপা জিতে ঢাকায় বড় সংবর্ধনা পেয়েছিলাম। ছাদখোলা বাসে করে শহর প্রদক্ষিণ করার সময় ঢাকাবাসী আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই অনুভূতি অন্যরকম। ভাষায় প্রকাশ করা এখনও কঠিন। এই বছরে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে। তাই আমরা চাইবো তা যে করেই হোক ধরে রাখতে। ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারলে হয়তো আবারও  ছাদখোলা বাসে করে সংবর্ধনা পাবো। সেই অপেক্ষায় আছি।’

সাফ জেতার সময় কোচ ছিলেন গোলাম রব্বানী ছোটন। তিনি এখন দলের সঙ্গে নেই। নতুন বছরে নতুন বিদেশি কোচ আসার কথা। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ছাড়াও মেয়েদের লিগও হওয়াটা জরুরি। গতবছর তো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কথা বলে সেটাও হয়নি। এই বছর বসুন্ধরা কিংস খেলবে বলে জানিয়েছে। তাই লিগের ভাগ্য কিছুটা অনিশ্চিত। নিজেদের মাঠে সাফে ভালো করতে হলে মেয়েদের লিগ আয়োজন জরুরি।

এছাড়া সাফের বয়সভিত্তিক আসর রয়েছে। সবমিলিয়ে মেয়েদের সামনে নতুন করে স্বপ্ন দেখা ও তা বাস্তবায়নের বছর শুরু। যেই চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছে বাফুফে ও সাবিনারা।