পাঁচ গোলের থ্রিলারে ইরানের স্বপ্ন ভেঙে আবার ফাইনালে কাতার

এশিয়ান কাপে শুরু থেকে ঘটেছে অঘটন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুটি ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা থাকলো। মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে ইতিগাস গড়ে জর্ডান। বুধবার তিনবারের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ও র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৭ ধাপ এগিয়ে থাকা ইরানের বিপক্ষে জিতে গেলো কাতার।

টানটান উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচের সাক্ষী হলো দোহার আল থুমামা স্টেডিয়ামের হাজারো স্বাগতিক দর্শক। দেশের ফুটবল দল তাদের হতাশ করেনি। পাঁচ গোলের থ্রিলার জিতে ইরানের স্বপ্ন ভেঙে দিলো কাতার। এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে জায়গা করে নিলো, যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে জর্ডান। বুধবার ৩-২ গোলে সেমিফাইনাল জিতেছে কাতার।

গোল-পাল্টা গোলের ম্যাচে ৮২তম মিনিটে আলমোয়েজ আলীর লক্ষ্যভেদী শট গড়ে দিয়েছে পার্থক্য। ইরান ম্যাচ শেষ করেছে ১০ জনের দল নিয়ে। শোজা খলিলজাদেহ স্টপেজ টাইমে দেখেছেন লাল কার্ড। গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯ ম্যাচে এই প্রথমবার হারের তিক্ত স্বাদ পেলেন ইরান কোচ আমি ঘালেনোয়েই।

২০২২ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রুপ ম্যাচে হারার পর থেকে অপরাজিত ছিল ইরান। কাতারের সঙ্গে আগের সবশেষ দেখাতেও জিতেছিল তারা বড় ব্যবধানে। গত বছর অক্টোবরে ৪-০ গোলে জর্ডান ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে ওই জয়ের স্মৃতি তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। শুরুতেই কাতারের জাল কাঁপিয়ে দর্শকদের নিস্তব্ধ করে দেয় ইরান। 

চার মিনিটে থ্রু ইন থেকে সর্দার আজমোন ওভারহেড কিকে গোল করেন। ইরান প্রায় সময় কাতারের রক্ষণ তটস্থ করে রেখেছিল। কিন্তু স্বাগতিকরা সমতা ফেরায়। জসিম গাবেরের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলকিপার আলিরেজা বেইরানভান্দের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায় ১৭ মিনিটে।

কাতারের আকরাম আফিফ স্কোর ২-১ করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু তার শট সেভ করেন আলিরেজা, ফিরতি শট বারের ওপর দিয়ে যায়। অবশ্য আফিফ হাফটাইমের আগে টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম গোল করেন। বেইরানভান্দ হাত বাড়িয়েও তার শট রুখতে পারেননি। 

বিরতির পর নতুন উদ্যোমে খেলা শুরু করে ইরান। ভিএআর যাচাইয়ে কাতারের আহমেদ ফাতির হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পায় তারা। সাইদ এজাতোলাহির জোরালো শট থেকে নিজের মুখ বাঁচাতে গিয়ে হাত দিয়ে বল ঠেকান কাতারি ডিফেন্ডার।

জাপানের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করা আলিরেজা জাহানবখশ পেনাল্টি কিকের দায়িত্ব নেন। ৫১ মিনিটে তার স্পট কিকে বল মাঝখান দিয়ে জালে জড়ালে স্কোর ২-২ হয়। বক্সের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃতীয় গোল করতে পারতো ইরান। কিন্তু উল্টো লিড নেয় কাতার। আলমোয়েজ সতীর্থের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু কোনাকুনি শটে জয়সূচক গোল করেন।

স্টপেজ টাইম ১৩ মিনিটের ছিল। কিন্তু শেষ সময়ে ১০ জনের দল হয়ে যায় ইরান। খলিলজাদেহ কাউন্টার অ্যাটাকের সময় ফাউল করেন আফিফকে। রেফারি ভিএআর চেক করে তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মার্চিং অর্ডার দেন। 

জাহানবখশ একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর কাছে ছিলেন। কিন্তু তার শট পোস্টে লাগে। লিড ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে যায় কাতার।

এবার তাদের সামনে জর্ডান পরীক্ষা, গত জানুয়ারিতে প্রীতি ম্যাচে যাদের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা। নিশ্চিতভাবে প্রতিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে থাকবে স্বাগতিকরা। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি লুসাইল স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে দুই দল।