এদিন বেশ ধীরে শুরু হয়েছিল খেলা। দুই দলই এক অপরকে বোঝার চেষ্টা করে খেলছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়য় সেরেস এফসি। তাদের মুল অস্ত্র মার্কাস শ্রক ও আদ্রিয়ান গালার্দো জুটি। শেষ পর্যন্ত এরা দুজনেই গড়ে দেন ব্যবধান। নিয়মিত পজিশন পরিবর্তন করে, কখনও ডানে প্রান্তে, কখনও বাম প্রান্তে কখনও মাঝমাঠে অবস্থান পরিবর্তন করে তটস্থ রাখেন জামাল ডিফেন্ডারদের। প্রথমার্ধে সেরেসের দুটি গোলই এ জুটির প্রচেষ্টার ফসল।
শেখ জামালের আক্রমণের ভার ছিল মূলত মিডফিল্ডার ল্যান্ডিং ডারবো, অধিনায়ক ওয়েডসন ও আরেক ফরোয়ার্ড এমেকা ডারলিংটনের ওপর। ল্যান্ডিং বল যোগান দেবেন আর আক্রমণ শানাবেন। এটিই ছিল কৌশল। কিন্তু কার্যকরী কোন প্রভাব তারা প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে রাখতে পারেননি। সেরেস প্রথমে বেশি চাপ সৃষ্টি করে খেলেনি। সুযোগের অপেক্ষায় ছিল তারা। ১৮ মিনিটে প্রথম আক্রমণটা শানায় জামাল। ওয়েডসনের মাপা ক্রসটি উড়ে আসছিল এমেকার দিকে। কিন্তু সেরেস গোলরক্ষক মাইকেল কাসাসের সময়োচিত ডাইভে বল পাননি এমেকা।
পরের আক্রমণেই গোল পেয়ে যায় সেরেস। ২৪ মিনিটে মিডফিল্ডার রেইখেল্ট বাম প্রান্ত দিয়ে করেছিলেন একটি মাপা ক্রস। বলের গতিপথটা পরিবর্তন করে দেন শ্রক। গালার্দো বল পেয়ে করেন আলতো প্লেসিং শট। জামাল গোলরক্ষক সোহেল বাম দিকে ডাইভ দিয়েও বল ধরতে পারেননি। পোস্টে আঘাত করে বল অতিক্রম করে গোললাইন। প্রথম গোল হজম করার রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় গোল হজম করে জামাল। ২৯ মিনিটে 'সুপার ফুটওয়ার্ক' দেখান শ্রক। এবার বাম প্রান্তে দুইজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে স্কয়ার পাস ঠেলে দেন গালার্দোকে, ঠাণ্ডা মাথায় আরেকটি প্লেসিং শটে জালে বল জড়িয়ে দেন গালার্দো।
জামালের প্রথম দুর্ভাগ্য আসে ৩৯ মিনিটে। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ল্যান্ডিং ডারবোর জোরালো গ্রাউন্ডার আঘাত হানে কাসাসের ডান হাতের পোস্টে। গোল হয়ে গেলে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকতে হতো না জামালকে। প্রধমার্ধের শেষ মিনিটে ইয়াসিনের হেড দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন সেরেস গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রপটে তেমন কোনও পরিবর্তন আসেনি। জামাল চেষ্টা করে গেছে আর সেরেস তাদের দুই গোলের অগ্রগামীতা ধরে রেখে খেলার দিকেই বেশি মনোসংযোগ করে। ৬০ মিনিটে জামাল কোচ মানিক তার আক্রমণে ধার বাড়ান ফরোয়ার্ড এনামুলকে মাঠে নামিয়ে। তুলে নেন ডিফেন্ডার ইয়ামিন মুন্নাকে কিন্ত লাভ হয়নি তাতে। আবারও জামালের দীর্ঘশ্বাস ৭৪ মিনিটে। এবার ওয়েডসন বক্সেও একা পেয়েও পরাস্ত করতে পারলেন না সেরেস গোলরক্ষক কাসাসকে। সাইড ভলিটি পাঞ্চ করে প্রতিহত করেন কাসাস।
আসলে দিনটি যে জামালের না তা প্রমাণিত হয় ৭৬ মিনিটে। যখন ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। একটি সান্তনার গোল হয়তো পেত শেখ জামাল। কিন্তু ৮০ মিনিটে ওয়েডসনের কর্নার আবারও ক্রমপিস চুমু খেয়ে বাইরে চলে যায়। ফলে এ নিয়ে এএফপি কাপে টানা দুটি হারের তিক্ত স্বাদ নিল শেখ জামাল। প্রথম ম্যাচে শেখ জামাল সিংগাপুরে ট্যাম্পাইন্স রোভার্সের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল।
/আরএম/এমআর/