রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়ান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গোলও করেন সাবলীলভাবে। নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিল দলে তাকে নিয়ে আশাভরসা। কিন্তু প্রতিদান দিতে পারছেন কোথায়! ক্লাব আর জাতীয় দলের জার্সিতে কেন একই ফর্ম দেখাতে পারেন না, তা নিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয় তাকে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড প্যারাগুয়ের কাছে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে হারের পর বললেন, রিয়ালে খেলার চেয়ে ব্রাজিলের দায়িত্ব পালন একেবারে আলাদা। শেষ পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ হারের পর ভক্তদের কাছে ক্ষমাও চাইলেন তিনি।
আসুনসিয়নে সেলেসাওরা স্বাগতিক প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে। রিয়াল সতীর্থ রদ্রিগো ও এন্দ্রিককে পাশে পেলেও ক্লাবের পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। ম্যাচে নিজেকে চেনাতে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত স্বীকার করলেন, তার ক্লাব ও জাতীয় দলে খেলা এক নয়।
স্পোরটিভিকে ভিনিসিয়ুস বললেন, ‘এটা একেবারে আলাদা (রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলার চেয়ে)। ইউরোপে খেলা ভিন্ন, বল এক পাশ (মাঠের) থেকে আরেক পাশে চলে যায় দ্রুত। আমাদের জানতে হবে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়, যেন প্রত্যেকে ভালো খেলতে পারে এবং জেতে।’
বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলেন তিনি এভাবে, ‘আমরা জানি কোন পরিস্থিতিতে আছি। এখান থেকে ব্রাজিলকে যে কোনও মূল্যে বের করতে চাই। এখন আমরা সবাই দেশে গিয়ে চিন্তা করবো ভালো খেলায় ফিরতে আমরা কী করতে পারি। এভাবে এখানে এসে আমরা পয়েন্ট হারাতে পারি না, যেভাবে খেলেছি, সেটাও উচিত না। এখন কঠিন সময়। আমাদের সব সমালোচনাকে মেনে নিয়ে দ্রুত ব্রাজিলকে সেরা অবস্থানে ফেরাতে হবে।’
আকাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে না পারায় হতাশ ভিনিসিয়ুস। জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করাও যে বিশাল চাপের স্বীকারোক্তি তার, ‘আমরা ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাই, যারা সবসময় আমাদের পাশে ছিল। কিন্তু এখন কঠিন সময়। আমরা শুধু উন্নতি করতে চাই। আমি আমার সম্ভাবনা জানি, জাতীয় দলের জন্য কী করতে পারি সেটাও জানা। অবশ্যই এটা কঠিন প্রক্রিয়া, কারণ যখন আপনি আত্মবিশ্বাস পাবেন না, গোলও হবে না। অ্যাসিস্ট হবে না, এমনকি ভালো পারফরম্যান্সও। আমি জানি উন্নতি কীভাবে করতে পারি। যখন আরও ভালো করবো, তখন সবার মনে শান্তি বয়ে দিবো। আমি আমার দায়িত্ব জানি, যত দ্রুত সম্ভব উন্নতি করতে চাই।’
আট ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল পাঁচে নেমে গেছে। শীর্ষ ছয়টি দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। সপ্তম স্থানে থাকা দলকে খেলতে হবে আন্তঃকনফেডারেশন প্লেঅফে।