দুই বছর আগের দৃশ্য মনে করে দেখুন। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতে দেশে ফেরার পর কর্মকর্তাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে ছিল তাদের আধিক্য। গলায় মালা পরে ফুটবলারদের সঙ্গে সমানতালে মিশে যেতে দেখা যায়, যা অন্য কোনও দেশে বলা যায় দেখাই যায় না। তবে এবার দ্বিতীয় শিরোপা জিতে দেশে ফিরে এসে সাবিনারা ব্যতিক্রম দৃশ্য দেখলো।
বিমানবন্দরে বাফুফের নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা ফুল ও মিষ্টি মুখ করিয়েছেন। এরপর সংবাদ সম্মেলন থেকে ছাদখোলা বাসে তাদের আর দেখা যায়নি। বাফুফের নতুন সভাপতি তাবিথ আউয়াল এসে আগের প্রথা বন্ধ করে দিয়েছেন। শুধু সাফজয়ী দলকেই প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছিল। আদতে হয়েছেও তাই। নারী ফুটবলার ও কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের ছাড়া অন্য কোনও কর্মকর্তাদের দেখা মিলেনি।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাসের সাজসজ্জায় পরিবর্তন এসেছে। এবার বাসে শুধু নারী ফুটবলারদের ছবিই স্থান পেয়েছে। তাদের শিরোপা উদযাপনের ছবি দিয়েই সাজানো হয়েছে। ফুটে উঠেছে বাফুফের পেশাদারিত্বের ছাপ। স্পন্সর খরায় থাকা বাফুফের বাসে রয়েছে নারী দলের প্রধান স্পন্সর ঢাকা ব্যাংকের লোগো। এছাড়া বাফুফের বেভারেজ স্পন্সর পুষ্টি, ইন্টারনেট পার্টনার আমরা এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লোগো স্থান পেয়েছে। সেই বাসে চড়েই তারা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে বাফুফে ভবনে এসেছেন।
এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রসঙ্গে বাফুফে নির্বাহী কমিটির সদস্য শাখাওয়াত হোসেন শাহীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমাদের সভাপতি আগে থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী এবার সবকিছু হয়েছে। সামনে আরও পরিবর্তন দেখতে পারবেন।’
তবে সদস্যদের কেউ কেউ এর আগে ছাদখোলা বাসে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নতুন সভাপতির নির্দেশনায় সরে যান। বাফুফে সভাপতি তাবিথ বলেছেন, ‘আমি আমার মতো করে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করছি সবার সহযোগিতা পাবো।’