বাংলাদেশে এসে সুযোগটা কাজে লাগাতে চাইছে মালদ্বীপ

মালদ্বীপের কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে একধরনের স্বস্তি। আর তা হবেই না বা কেন! নিজেদের ফেডারেশনে আভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে তারা। এবার বাংলাদেশে দুটি ম্যাচ খেলতে এসে যেন স্বস্তির ছোঁয়া। সমস্যা থেকে বের হয়ে এসে জয়ের মালা পরে দেশে ফিরতে পারলেই যেন আনন্দের ঝিলিক। ফিফা প্রীতি ম্যাচের প্রথমটি বুধবার। সন্ধ্যা ৬টার ম্যাচে কিংস অ্যারেনাতে বাংলাদেশকে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখাতে চাইছে মালদ্বীপ।

সংবাদ সম্মেলনে কোচ আলী সুজেইন অনেক কথাই বললেন। নিজেদের সমস্যা ও উত্তরণের পথও দেখালেন। তবে ঠারেঠারে বুঝিয়ে দিলেন খেলার মধ্যে না থাকলেও খেলোয়াড়রা কিন্তু ফুটবল ভুলে যায়নি। মাঠে জয়ের জন্য নামবে সমুদ্রবেষ্টিতত দ্বীপদেশটি।

অনুশীলনে মালদ্বীপের খেলোয়াড়রা

আলি সুজেইন শুরুতে তাই বলেছেন, ‘কেননা গত নভেম্বর থেকে আমরা খেলার মধ্যে নেই। তো এটা আমাদের জন্য খুব ভালো একটা সুযোগ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পথচলা শুরু করার। আমাদের দলের প্রস্তুতি খুব ভালো নয়, তবে দলের প্রতি আত্মবিশ্বাস আছে। কেননা, অধিকাংশ খেলোয়াড় মাজিয়ার হয়ে খেলেছে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে, বাকিরা আমার সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে অনুশীলন করেছে।’

ঢাকার ম্যাচ জিততে পারলে মালদ্বীপ ফুটবলে নতুন করে জাগরণের চেষ্টা হবে। কোচ তেমনটাই মনে করছেন, ‘আমি মনে করি, ছেলেরা মানসিকভাবে শক্তিশালী এবং তারা মালদ্বীপের ফুটবলের উন্নতির জন্য নিজেদের মেলে ধরতে এখানে এসেছে। আপনারা জানেন ,গত নভেম্বর থেকে কোনও ফুটবল ছিল না, এখন আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য এটা সুযোগ, তারা যে কোনও কিছু করতে প্রস্তুত মালদ্বীপের ফুটবলের জন্য। ছেলেরা এই ম্যাচগুলো নিয়ে খুবই অনুপ্রাণিত।’

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা মালদ্বীপ নিজেদের ভালো দল বলে আখ্যায়িত করেছে। সুজেইনের কথাতে তা পরিষ্কার, ‘আমাদের লক্ষ্য জেতা। আপনিও বললেন বাংলাদেশে সেই একই দল, গত নভেম্বরে যাদের বিপক্ষে খেলেছিলাম, সেখান থেকে একটা বা দুইটা পরিবর্তন হতে পারে, আমাদের দলের একটা খেলোয়াড় আইসাম ইব্রাহিম। সে আমাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, সে দলের সঙ্গে নেই, কিন্তু অন্য যারা আছে হামজা মোহাম্মদ, ফাসির আলি, সবাই আছে। আমরাও ভালো দল।’

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ না হলে স্থানীয়ভাবে সবাই কম-বেশি খেলার মধ্যে ছিলেন। সেখানে সবাই ব্যস্ত ছিলেন, তারা খেলেছেন। সব মিলিয়ে ছেলেরা প্রস্তুত বলে সুজেইন জানালেন। পাশাপাশি নিজেদের পারফরম্যান্স দেখানোর অপেক্ষা তার শিষ্যদের, ‘এই মাঠ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের যেমন পরিচিত, এখানে তারা যেমন শক্তিশালী, এই মাঠ আমাদের খেলোয়াড়দের জন্যও একেবারে অপরিচিত নয়। কারণ, মাজিয়ার হয়ে এখানে অনেকেই খেলেছে, ভালো মাঠ, পিচ ভালো, পাসিং ফুটবল খেলা সম্ভব, যেটা আমাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করবে।’