পিছিয়ে থেকে দারুণভাবে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে চ্যালেঞ্জ কাপের শিরোপা জিতেছে বসুন্ধরা কিংস। মোহামেডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম ট্রফি হাতে নিয়েছে ভ্যালেরি তিতার দল। এমন জয়ে তপু-সাদদের ছিল বাধভাঙা উল্লাস।
তাই তো কিংস অ্যারেনাতে ম্যাচ শেষে সমতাসূচক গোলদাতা তপু বর্মণ বলেছেন, ‘এই ম্যাচটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেননা, আমরা ভুটানে তিনটা ম্যাচে হেরেছিলাম। কোনও পয়েন্ট সেখানে আমরা অর্জন করতে পারিনি। এটা আমাদের জন্য চাপের ম্যাচ ছিল।’
তিন গোল নয়, আরও বেশি হতে পারতো বলে মনে করেন তপু, ‘মোহামেডান সবসময় ভালো খেলে থাকে। তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। প্রথম গোলটা খাওয়ার পরে, প্রথমার্ধ শেষ করে আমরা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। ওই পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামার পরে আমার মনে হয়, আমরা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করেছি। যে তিনটা গোল আমরা করেছি, আমার মনে হয় আমরা আরও গোল পেতে পারতাম, আমরা আরও কয়েকটা উন্মুক্ত সুযোগ তৈরি করেছিলাম। এই জয় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আসছে প্রিমিয়ার লিগ ও ফেডারেশন কাপে এই জয় আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিবে। এই ম্যাচটা দিয়েই আমরা ফিডব্যাক দিলাম।’
অনেক দিন পর গোল পেলেন কিংস অধিনায়ক তপু। গোল করে সবাইকে চুপ থাকতে বলার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন এই ডিফেন্ডার, ‘দেড় বছর পর আমি গোল পেলাম। এর আগে লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে গোল পেয়েছিলাম। এখানে অনেক শোরগোল হচ্ছিল, আমারও কানে আসছিল, অনেক ধরনের শোরগোল আমি সেটা ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছি না। আমার জন্যই এটাই প্রযোজ্য, তাই আমি এইভাবে (চুপ থাকার) উদযাপন করেছি। এটা আমার মৌসুমের প্রথম গোল। এই গোলটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। আমার ছেলের জন্মদিন ছিল ১৫ নভেম্বর, গোলটা ছেলেকে উৎসর্গ করতে চাই।’
জাতীয় দলে তপুর পারফরম্যান্স আহামরি কিছু ছিল না। প্রসঙ্গ উঠাতেই তপু বলেছেন, ‘আপনারা আমার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন। তবে এসব ফুটবলে হয়ে যায়। সামনের দিনগুলোতে যেন ওই ভুলগুলো না করি। ভুল থেকে শিখতে হয়। আমি সবসময় শেখার চেষ্টা করি। নিজেকে কীভাবে আরও ফিট রাখা যায়, ভালো করা যায়, সেই চিন্তা করি। দেখবেন রোনালদো, মেসিরা কখনও অতীত নিয়ে চিন্তা করে না। ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে। আমিও সেভাবেই চিন্তা করি। কীভাবে ফিট থাকতে পারি, দেশের জন্য আরও ভালো পারফর্ম করতে পারি, আমি সেটা ভাবি।’