পায়ের পেশিতে টান লাগায় বিরতির পর তেকাঠির নিচে দেখা যায় তৈয়ব সিদ্দিকীকে। তখনও কোনও দল গোল পায়নি। প্রিমিয়ার লিগে আজ কুমিল্লাতে মোহামেডানের বিপক্ষে তাই অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলতে নেমে সফল ২২ বছর বয়সী গোলকিপার তৈয়ব। সাদা-কালোদের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়েছেন। কোনও গোল হতে দেননি। গোলপোস্টের নিচে ছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো। তাই তো ম্যাচসেরার পুরস্কার তৈয়বের হাতে উঠেছে। ক্যারিয়ারে এমন একটা দারুণ ম্যাচ খেলতে পেরে উচ্ছ্বাসও কম নয়।
একে তো ইয়ংমেন্স শীর্ষে থাকা মোহামেডানকে হারিয়েছে। তার ওপর এই জয়ে অসামান্য ভূমিকা মানিকগঞ্জ থেকে উঠে আসা ফুটবলারের। প্রতিপক্ষ কোচ আলফাজ আহমেদের প্রশংসাও পেয়েছেন। অথচ বিরতির পর নেমে শুরুতে কিছুটা নার্ভাস ছিলেন তৈয়ব। ক্লাবে ফিরে বাংলা ট্রিবিউনকে জানালেন, 'চোটের কারণে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারিনি। আজ শুরুতে নেমেছিল সাজু। ও চোটে পড়লে আমাকে নামতে হয়। ততদিনে আমি অনেকটাই সুস্থ। অনেক দিন পর আজ খেলতে নামায় একটু জড়তা ছিল। তার ওপর দল ভালো খেলছে। স্কোরলাইনে কোনও দলের গোল যোগ হয়নি। তাই চাপ নিয়ে খেললেও ধীরে ধীরে নিজেকে গুছিয়ে নেই। মনোযোগ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পেরেছি। এটাই বড় আনন্দের বিষয়।'
তৈয়ব বলেছেন, 'মোহামেডান সব ম্যাচ জিতেছে। ওদের সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন। তারপরও আমরা মনোবল হারাইনি। জয়ের সংকল্প নিয়ে খেলে সফল হয়েছি। এক গোলে মোহামেডানকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছি। এক গোলের পর ওরা চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে সজাগ দৃষ্টি রাখায় ওদের একের পর এক গোলের সুযোগ ব্যর্থ করে দিয়েছি। বলতে পারেন মোহামেডানকে হারিয়ে আমরা আলোড়নও ফেলেছি। সামনের দিকে আরও ভালো খেলতে চাই।'
তৈয়ব নিজেও সামনের দিকে আরও পারফরম্যান্স দেখিয়ে বড় দলে খেলার ইচ্ছে প্রকাশ করে বলেছেন, 'আমরা অনেক দিন ধরে সবাই এক সঙ্গে আছি। তাই পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে। আমি চাই সামনে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা দেখিয়ে বড় বড় দলে জায়গা করে নিতে যেন দেশসেরা গোলকিপার হতে পারি।'
তৈয়ব স্বপ্নপূরণের দিকে এখন হাঁটছেন।