১৪ বছর আগের স্মৃতি মনে করে স্মৃতিকাতর জামাল

২০১১ সালের জুন মাস। গ্রীষ্মকাল চলছে। ঢাকার তাপমাত্রা কম নয়। প্রচন্ড গরমের সঙ্গে আদ্রতাও আছে। ঠিক সে সেময় ডেনমার্ক থেকে এক ফুটবলার এলেন বাংলাদেশে। নাম তার জামাল ভূঁইয়া। লাল-সবুজ দলে খেলার জন্য ট্রায়ালও দিলেন। ব্রাদার্স ইউনিয়নের অপ্রস্তুত মাঠে। অনুশীলনে দেখা গেছে গরমের কারণে তার জিহ্বা পর্যন্ত বের হওয়ার দশা। কোচদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পারায় ফিরে যেতে হয়েছে ডেনমার্কে। সেই ছেলেটি ঠিক দুই বছর পর আবারও বাংলাদেশে এসে ক্রুইফের অধীনে ঠিকই লাল সবুজ দলে জায়গা করে নেন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেই জামাল ব্রাদার্স ইউনিয়নের মাঠে আজ অনুশীলন করতে এসে যেন স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন!

এবার ঘরোয়া ফুটবলে শুরু থেকে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে খেলার কথা ছিল জামালের। নানান কারণে হয়নি। বাফুফেতে অভিযোগ পর্যন্ত গড়ায়। তবে যাই হোক না কেন এখন জামালের মধ্যবর্তী দলবদলে নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।

আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। আজ হলুদ জার্সিধারীদের হয়ে মাঠে অনুশীলনও করেছেন। যদিও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর বাকি। দলটির ম্যানেজার আমের খান দিচ্ছেন ভরসা, ’লিগের প্রথম পর্বেই তো জামালের ব্রাদার্সের হয়ে খেলার কথা ছিল। আমাদের সঙ্গে অনুশীলনও করেছিল, কিন্তু নানা জটিলতায় সে খেলতে পারেনি। তবে লিগের দ্বিতীয় পর্বে খেলবে। এ নিয়ে এখন আর কোনও বাধা নেই। এখন সে দলের সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

এসব কথা যখন হচ্ছে, জামালকে ২০১১ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া হয়। জামাল মাঠে দৌড়ে হাঁপিয়ে উঠছেন। গরমে জিহ্বা বের হওয়ার জোগার! মাঠের বাইরে তার চাচাতো ভাই দেখছিলেন কতোদূর কী হয়।টেনশনে শেষ তখন বেচারা!  জামাল যেন আনমনে  ফিরে গেলেন সেই দিনটিতে। 

বাংলা ট্রিবিউনের কাছে স্মৃতিচারণ করলেন এভাবে, 'হ্যাঁ দিনটির কথা আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে। জুন মাস ছিল। প্রচন্ড গরম। এই মাঠেই ট্রায়াল দিতে হয়েছিল। প্রথম দিন মানিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। মাঠটি ভালো ছিল না। ঘাস ছিল না বললেই চলে। বালুতে ভরা। আবার পানিও ছিল। দর্শকও অনেক হয়েছিল। আজ মাঠে অনুশীলন করতে এসে সেই দিনটির কথা মনে পড়লো। আমি আসলে নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলাম।’

২০১১ সালে সেই দিনটির পর জামাল ফিরে যান ডেনমার্কে। নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করে দুই বছর পর ক্রুইফের অধীনে টিকেও যান। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গেলো কয়েক বছর ধরে তো অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ডও আছে।

জামাল কী তখন ভেবেছিলেন তার ক্যারিয়ার এতদূর আসবে। একসময় জাতীয় দলের অধিনায়কও হবেন। এমন প্রশ্নের উত্তরে জামাল স্মিত হেসে বললেন, 'সময় মানুষকে অনেক কিছু বদলে দেয়। আমি আমার মতো চেষ্টা করেছি।’

জামাল সেইসময় পণ করে দেশে ফিরে গিয়ে আবার এসে জায়গা পাকাপাকি করে নেন। কিন্তু এবার অন্যরকম চ্যালেঞ্জ তার জন্য। ব্রাদার্সের হয়ে প্রথম খেলবেন। খেলেই আবার হাভিয়ের কাবরেরার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। তবে সময়টা বেশ কঠিন। একে তো বয়স হয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে আছেন বলতে হবে।

সবশেষ মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ছিলেন না। ২৫ মার্চ এশিয়ান কাপের তৃতীয় রাউন্ডের বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতিও শুরু হবে লিগের দ্বিতীয় পর্বের দুই রাউন্ড  পর।

সেক্ষেত্রে ভারত ম্যাচের আগে খেলায় ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন কিনা জামাল তা আছে দেখার। জামাল যদিও বলছেন, 'ব্রাদার্সের সঙ্গে চুক্তি হয়ে যাবে শিগগিরই। আপাতত অনুশীলন করছি। জাতীয় দলে আবারও ফেরার ইচ্ছা তো আছেই। এখনও বাছাই পর্বের জন্য অনেক দিন বাকি। দেখা যাক কী হয়।’