দেশান্তরি হচ্ছেন মতিন

‘আমরা কেন খ্যাপ খেলি কেউ বুঝতে চায় না’

এই তো বছর খানেকের বেশি সময় আগেও দুজন ফুটবলারের ডাক পড়তো জাতীয় দলে। কেউ কেউ তো একাদশেও খেলতেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মাশুক মিয়া জনি ও মতিন মিয়া জাতীয় দল তো দূরের কথা, এখন পুরোপুরি পেশাদার ফুটবলের বাইরে। সিলেট অঞ্চলে ‘খ্যাপ’ খেলে বেড়াচ্ছেন! 

তবে কেন তাদের এমন অবস্থা, তা অনুসন্ধান করলে দেখা যায় চলতি মৌসুমে বসুন্ধরা কিংস থেকে শেখ রাসেলে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু শেখ রাসেল দল গঠন না করায় তখন আর পেশাদার লিগে তাদের থাকা হয়নি। ৫ আগস্টের পর অনেক দলের আর্থিক ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। অনেক দলই তাই কম পারিশ্রমিকে খেলোয়াড় নিবন্ধন করে। কেউ কেউ তো শুধু নামে মাত্র পারিশ্রমিক দিয়ে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।

বেশিরভাগই বর্তমান অবস্থায় নিজেদের মানিয়ে নিতে পারলেও মতিন-জনি তা পারেননি। এমনিতেই আগের মৌসুমে খেলার সুযোগ কম পাওয়ায় ও পারফরম্যান্সে হেরফের হওয়ায় দুজনের মূল্য কমে যায়। তাই দল না পেয়ে নামকাওয়াস্তে টাকায় আর পেশাদার লিগে খেলেননি দুজন। বেছে নিয়েছেন নিজের জেলা সিলেটে ‘খ্যাপ’ ফুটবলকে। পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্য করছেন। আর তৈরি হচ্ছেন নতুন মৌসুমের জন্য।

জনি যেমন শ্রীমঙ্গলে ‘খ্যাপ’ খেলার পাশাপাশি ব্যবসা করছেন। পাশাপাশি নিজেদের একাডেমিতে ফিটনেসও ধরে রাখছেন। সেখান থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘কম টাকায় তো আর পেশাদার ফুটবল খেলা যায় না। নামকাওয়াস্তে না খেলে তাই শ্রীমঙ্গলে চলে এসেছি, পরিবারের কাছে। এখানে এসে ব্যবসা শুরু করেছি। সপ্তাহে দুইবার হলেও খ্যাপ ফুটবল খেলছি। ফিটনেস ধরে রাখার জন্য একাডেমিতে পরিশ্রম করছি। যেন পরের মৌসুমে পেশাদার লিগ খেলতে পারি।’

‘খ্যাপ’ খেলাটা অনেকেই ইতিবাচক চোখে দেখে না। তবে জনির উপলব্ধি, ‘খ্যাপ না খেলে উপায় আছে নাকি। দোষ কোথায়। যারা পেশাদার লিগ খেলছে না তারা তো খেলতেই পারে। আর এবার তো মনে হয় পেশাদার লিগে খেলা সর্বোচ্চ খেলোয়াড় খ্যাপ খেলছে। কেননা এবার তো বড় ক্লাবসহ অনেকেই সেভাবে পারিশ্রমিক দিতে পারছে না। তাই আমরাসহ সবার তো সংসার চালাতে হবে। শুধু বললেই তো হবে না। আমাদের দিতে তো তাকাতে হবে। আমরা কীভাবে চলবো।’

জনির মতো মতিনও খ্যাপ খেলে বেড়াচ্ছেন। তবে মতিন পরিবারসহ দেশের বাইরে থিতু হওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। জনি নিজেই জানালেন, ‘আমরা যে প্রতিদিন খেলি তা কিন্তু নয়। ধরেন সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনাল ম্যাচ। সপ্তাহে দুটি ম্যাচ। মতিনও আমার মতো খেলছে। তবে ও দেশের বাইরে পরিবারসহ সেটেল হতে চাইছে। কাগজপত্রও তৈরি করে কাজ এগিয়ে চলেছে। কানাডা, ইংল্যান্ডসহ যেসব দেশে পারে ও স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমাকে ও নিজে বলেছে। হয়তো হতাশা থেকে ওর এমন সিদ্ধান্ত। বড় দলে থাকলেও সেভাবে তো খেলার সুযোগ ও পায়নি।’

জাতীয় দলের হয়ে দুই গোল করা মতিন অবশ্য এ নিয়ে কথা বলার সুযোগই দিলেন না। শুধু বলেছেন, ‘ভাই আমি ভালো আছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলবো।’ এই বলে আর যোগাযোগ করেননি। অসংখ্যবার কল দিয়েও সাড়া মেলেনি।

সৃষ্টিশীল এক ফরোয়ার্ড ঝড় তুলে অল্পতে পেশাদার লিগ ছেড়ে চলে গেলেন। এখন দেখার সামনে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে।