প্রথম দিনের অনুশীলনে সবাই সিরিয়াস। কিংস অ্যারেনাতে কোচ হাভিয়ের কাবরেরার নির্দেশনায় সবাই ভারত ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া তো আত্মবিশ্বাসী। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব ২৫ মার্চ ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নেওয়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার।
জামাল আজ অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা ভালো কিছু আশা করি। যদি হেড টু হেড হিসাব করি তাহলে আমি মনে করি, তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক বড় পার্থক্য আছে। তবে আমরা প্রত্যাশা করি একটা ইতিবাচক ফল। অবশ্যই আমরা তিন পয়েন্ট নিতে চাই।’
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা চৌধুরী প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দলে খেলতে যাচ্ছেন। জামালের উপলব্ধি, ‘আমি মনে করি, এই দলে হামজা সেরা প্লেয়ার এবং সম্ভবত এই সাউথ এশিয়াতেও সেরা খেলোয়াড়। হামজা এলে সেটা সম্ভবত টিমের জন্য সেরা বুস্ট আপ হবে।’
ইতালির সিরি ডি লিগে খেলা ফাহামেদুলকে নিয়ে তার সাবধানী কথা, ‘ওকে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আমি আসলেই তাকে চিনি না, তার সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবো না। কোচ তাকে বাছাই করেছেন, অবশ্যই সে ভালো খেলোয়াড়। তাকে আগে আমাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, তারপর আমরা দেখবো কী হয়।’
প্রবাসী খেলোয়াড় আসা প্রসঙ্গে জামাল ইতিবাচক, ‘প্রবাসী খেলোয়াড়দের আসা একটা ইতিবাচক দিক। বিদেশ থেকে অনেক খেলোয়াড় আসছে, যারা বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চায়, বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চায়, এটা ইতিবাচক দিক। আমি চাই আরও বেশি এলে ভালো। কারণ, অন্যান্য দেশ একই কাজ করছে। যদি দেখেন ফরাসি দলের দিকে, ওরা কিন্তু অনেক বিদেশিদের নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে।'
অনুশীলনে সেটপিস নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জামাল বলেছেন, ‘এই দলে এবার অনেক তরুণ ফুটবলার আছে, সিনিয়র আছে, অধিকাংশ আমরা ৮-১০ জন একসঙ্গে খেলেছি তিন বছর ধরে, বাকিরা নতুন। আপনারা যদি গত তিন বছরে আমাদের ম্যাচগুলো দেখেন, দেখবেন আমরা সব থেকে বেশি গোল খাচ্ছি কোন দিকে, সেটা সেট পিস, এটা নিয়ে তো কাজ করতে হবে। এই জায়গাটায় আমাদের আরও অনেক উন্নতি করতে হবে, র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি করতে হবে। আমার মনে হয়, এ বছর আমাদের ভালো সুযোগ আছে।'
ভারত ম্যাচটি সবার কাছে বিশেষ কিছু। জামাল সে কথাই বললেন, ‘সবাই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ চায়, এই ম্যাচ খেলতে চায়। আমি মনে করি, যারা এই দলে নাই, তারাও এই ম্যাচ খেলতে চায়। (ভারতে গিয়ে) আমরা সবশেষ ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে খেলছি ২০১৯ সালে, আমি সেই একই খেলা চাই, কিন্তু এবার তিন পয়েন্ট নিতে চায়।’
ডিফেন্ডার রহমত মিয়া অনুশীলন নিয়ে মন্তব্য করেছেন এভাবে, ‘আমার মনে হয় না শিলং ও সৌদি আরবে কন্ডিশনের খুব পার্থক্য থাকবে। আমার মনে হয়, একই রকম আবহাওয়া থাকবে। সৌদি আরবে আমরা নিবিড়ভাবে অনুশীলন করতে পারবো। কেননা, এখানে থাকলে আসলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং নানান বিষয় থাকে, সেটা সৌদি আরবে হবে না। আমরা সেখানে আমাদের মতো করে প্রস্তুতি নিতে পারবো।’
ভারত ম্যাচে অন্যরকম স্পিরিট থাকে বলে জানালেন রহমত, ‘আমরা (ভারতের মাঠে) সল্টলেকে সবশেষ ম্যাচ খেলেছিলাম, ওটা হয়েছিল ২০১৯ সালে। সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অন্যান্য যে দলের বিপক্ষে খেলি না কেন, ভারত যতই এগিয়ে যাক না কেন, অবশ্যই আমাদের থেকে এগিয়ে, অবশ্যই ভালো দল। কিন্তু যখন ভারতে বিপক্ষে ম্যাচ খেলা হয়, তখন আমাদের মধ্যে আলাদা একটা স্পিরিট কাজ করে। সবসময় ওদের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের মধ্যে একটা স্পিরিট থাকে, ভালো করার তাড়না থাকে।’