১০ জুন বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচের টিকিট নিয়ে চারদিকে হইচই পড়ে যায়। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচকে সামনে রেখে টিকিট নিয়ে ছিল হাহাকার। বাফুফে টিকিট অনলাইনে বিক্রি করলেও ভোগান্তি এড়াতে পারেনি। তবে এর মধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে অনেকটাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে তারা।
বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির অন্যতম সদস্য তাজওয়ার আউয়াল আজ বাফুফে ভবনের সামনে টিকিট নিয়ে নানান কথা বলেছেন-
সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে...
আমাদের ১৮ হাজার ৩০০ টিকিটের সবগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা দেখেছি গতকাল রাত থেকে ৫ মিনিটে ৩০ হাজার ইউজার অনলাইনে আসার চেষ্টা করেছিল। আমরা একটা কিউ সিস্টেম করেছিলাম। কালকেও দুইবার সাইবার অ্যাটাক হয়েছিল। কিন্তু কালও আমরা সেটা সাকসেসফুলি মোকাবিলা করেছি। স্লো সিস্টেমটা নিয়ে, পুরো সিস্টেমটা নিয়ে। কিন্তু সারা রাত জেগে ছিলাম টিকেটিং কোম্পানির সঙ্গে। আমরা দেখেছি টিকেটিং কোম্পানি প্রত্যেক মিনিটে সাকসেসের সঙ্গে টিকিট সেল করছিল।
ক্লাব হাউজ ২ এর টিকিট অনলাইনে সোল্ড আউট। বাকি হসপিটালিটি বক্স রবি একটা নিয়েছে। অন্য কর্পোরেট হাউজগুলো নিয়েছে। সব সোল্ড আউট।
টিকিফাইয়ের ওয়েব সাইট লিঙ্ক থেকে ওগুলো শতভাগ সঠিক। ওই টিকিট যদি না পেয়ে থাকেন, পাবেন। ওগুলো দিয়ে খেলা দেখতে পারবেন।
দেশে হামজার অভিষেক নিয়ে পরিকল্পনা...
আমাদের একটা ফ্যান জোন হবে। একটা কালচারাল ইভেন্ট হবে। আমরা এটা নিয়ে একটা পরিকল্পনা করেছি। ইতোমধ্যে সেটা শুরু হয়ে গেছে। প্রথম ইস্যু ছিল টিকিট নিয়ে, সেটা সফলভাবে শেষ করেছি। পরের কালচারাল প্রোগ্রাম ফ্যান জোন। এসব নিয়ে এখন চ্যালেঞ্জ ফেস করছি। এটা নিয়ে কাজ করছি। আগামী ৫ দিনের মধ্যে সব শেষ হয়ে যাবে।
আজ এটা ক্লোজ করেছি। কাল বিকেল থেকে চেষ্টা করবো ভুটান ম্যাচের টিকিট অনলাইন করে দেওয়ার জন্য।
বিদেশ থেকে কী পরিমাণ টিকিট কাটা হয়েছে...
ওই আপডেট এখনও নাই। ফরেনসিক অডিট করবো। কোনও টিকিটে কোনও মিস ম্যাচ আছে নাকি। আমরা কোনও অতিরিক্ত টিকিট পাই নাকি ওই সিস্টেমে। আমরা সব চেক করবো। টিকিফাই যেন কোনও মিসটেক না করে। বাফুফে যেন কোনও মিসটেক না করে। আমাদের যদি কোনও টিকিট থাকে, তাহলে শতভাগ আমরা সেটা অনলাইনে উঠিয়ে দেবো। আমরা যদি একটা দুটোও পাই, সেটাও অনলাইনে দিয়ে দেবো।
টিকিট কিন্তু বাংলাদেশে বিক্রি হয়েছে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত।
বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ট্রেলিয়া, এমনকি উগান্ডা থেকেও একজন ইউজার ছিল। আমাদের কোনও প্রবাসী বাঙালি ভাই হবেন। ঈদের ছুটিতে হয়তো বাংলাদেশে আসবেন। ফেয়ারলি সুযোগ পেয়েছেন, কিনেছেন।
ফ্যান জোন হবে...
আটটা বিভাগে আটটা ফ্যান জোন হবে। স্টেডিয়ামের চতুর্দিকে লেজার শো থাকবে। কনসার্ট হবে। ফ্যান জোনে ফুটসাল গেম, পেনাল্টি শট হবে। ম্যাজিক ও সার্কাস শো হবে।
টিকিটের কালোবাজারি...
আমি শেষে একটা কথা বলতে চাই, ব্ল্যাক মার্কেট সেল নিয়ে কথা উঠেছিল। আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সেদিন ম্যাজিস্ট্রেট রাখবো। সেদিন যদি কোনও জাল টিকিট পাই, সঙ্গে সঙ্গে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
আর যদি টিকিট ভেরিফাই করি, টিকিটের নাম থাকবে, নম্বর থাকবে ও একটা ইমেল আইডি থাকবে। কোনও মিস ম্যাচ যদি হয়। কোনও দর্শক যদি মাঠে এসে না ঢুকতে পারে, কিউআরকোড স্ক্যানিংয়ের জন্য। আমরা যদি প্রমাণ করতে পারি যে এটা একটা জাল টিকিট, আমরা যে দর্শক, যার নামে টিকিট, উনার নামে মামলা হবে।