শক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেড। দলে রয়েছে ইউক্রেনের একাধিক ফুটবলার। তারপরও এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে বাছাই পর্বে আবাহনী লিমিটেড চেয়েছিল লড়াই করে ম্যাচ জিততে। লড়াই ঠিকই অনেকটা সাধ্যমতো হয়েছে। তবে কিরগিজস্তানের স্কিলের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে। আবাহনীকে দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল দিয়ে ২-০ তে বাছাইপর্বের ম্যাচ জিতেছে মুরাস ইউনাইটেড। ৭০ নম্বর জার্সিধারী জুমাসেভ একাই জোড়া গোল করেন।
মঙ্গলবার এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের বাছাই পর্বে কিরগিজস্তানের মুরাসের বিপক্ষে লড়াই করছে আবাহনী। জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। যদিও সুযোগ পেয়েছিল দুই দলই। গোলশূন্য স্কোরলাইন রেখে বিরতিতে যায় দুই দল।
আবাহনীর চেয়ে শারীরিক দিয়ে এগিয়ে মুরাস। শুধু তাই নয়, টেকনিক-ট্যাকটিসের দিক দিয়েও তারা সামনের দিকে। তাই ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণে ধার ছিল কিরগিজস্তানের দলটির।
শুরুর ১৫ মিনিট তো চেপে বসেছিল। গোলের সুযোগও তৈরি করেছির একের পর। তবে রক্ষণের খেলোয়াড়রা ও গোলকিপার মিতুল মারমা গোল হতে দেননি।
৬ মিনিটে মুরাস প্রথম সুযোগ পায়। সতীর্থের ক্রসে একজন ডামি করলে অন্য প্রান্তে ওলে মারচুকের প্লেসিং পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
তিন মিনিট পর কোদজে চাবেলের জোরালো শট মিতুল ফিস্ট করে দেন।
১২ মিনিটে ইগুলভের কোনাকোনি শট আবাহনী কিপার শরীর দিয়ে ফেরান।
আবাহনী কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে প্রতি আক্রমণে উঠে গোল করার চেষ্টা করে। তবে সফল হতে পারেনি।
১৮ মিনিটে ইব্রাহিমের পাসে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে দিয়াবাতে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়েও আবার উঠে শট নিলে তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে গিয়ে সমর্থকদের হতাশ করে।
চার মিনিট পর কিরগিজদের কোদজে জাবেলের জোরালো শট মিতুল শেষ মুহূর্তে ডান হাত বাড়িয়ে রুখে দেন।
পরের মিনিটে আল আমিন একাই বক্সে ঢুকে শট পর গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা এক ডিফেন্ডার দ্রুত পা চালিয়ে ক্লিয়ার করেন।
৩২ মিনিটে দিয়াবাতের পাসে ইব্রাহিমের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৪২ মিনিটে মোরসালিনের জোরালো শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
বিরতির পর আবাহনী খেলোয়াড় পরিবর্তন করে কিছুই করতে পারেনি। বরং মুরাসের গোল পেতে সময় লাগেনি।
৪৭ মিনিটে মুরাস এগিযে যায়। আন্দ্র্রে বাতসুলার ক্রসে জুমাসেভ কিছুটা ফাঁকায় লাফিয়ে উঠে হেডে জাল কাঁপান। গোলকিপার মিতুল কিছুই করতে পারেননি।
৫২ মিনিটে অল্পের জন্য রক্ষা পায় আবাহনী। আল ইগুলভের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
৭২ মিনিটে আবাহনী চেষ্টা করেছে। তবে দিয়াবাতের পাস থেকে মোরসালিনের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
যোগ করা সময়ে রক্ষণের ভুলে জুমাসেভ বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে নিখুঁত ফিনিশিং করেন। এতেই আবাহনীর হার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মুরাস মূল পর্বের টিকিট পেয়েছে।