হেড কোচ সাইফুল বারী টিটু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। তাকে ছাড়া এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ বাছাইয়ের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। স্বাগতিক ভিয়েতনামের কাছে হেরেছে ২-০ গোলে। আজ দুই অর্ধে একটি করে গোলের সুবাদে স্বাগতিকরা জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।
ভিয়েত ত্রাই স্টেডিয়ামে ভিয়েতনাম নিজেদের মাঠে প্রায় পুরো সময়জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। দ্রুতগতির ফুটবল খেলে বাংলাদেশকে সবসময় তটস্থ রেখেছে তারা। গোলের সুযোগ অনেক পেলেও মাত্র দুটি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এর মধ্যে তিনটি সুযোগ তো ক্রসবারে লেগে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। কিউবা মিচেল-জায়ান হাকিমদের নিয়ে বাংলাদেশের খেলায় ছিল না কোনও ধার। পাসিং ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হবে, তেমনটি দেখা যায়নি। প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে সেভাবে পরীক্ষাতেও ফেলতে পারেনি মোরসালিন-আল আমিনরা।
১০ মিনিটে ভিয়েতনাম অল্পের জন্য গোল পায়নি। এনগুয়েন ফি হোয়াংয়ের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ডান পায়ের জোরালো শট সাইড পোস্টে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ৫ মিনিট পর ভিয়েতনাম ঠিকই লিড নেয়। সতীর্থের ডিফেন্স চেরা পাস থেকে এনগুয়েন এনগোচ মাই বক্সে ঢুকে ফাঁকায় দেখেশুনে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে নিখুঁতভাবে ফিনিশিং করেন। বাংলাদেশ এই অর্ধে দুবার স্বাগতিকদের গোলকিপারের পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাতে সফল হতে পারেনি। ৩৪ মিনিটে শেখ মোরসালিনের ফ্রি-কিক জায়গায় বসে তালুবন্দি করেন ভিয়েতনামের গোলকিপার। ৪১ মিনিটে সতীর্থের পাসে বক্সে ঢুকে আল আমিনের দুর্বল শট গোলকিপার একটু সরে গিয়ে গ্রিপে নেন।
বিরতি পর ভিয়েতনামের আক্রমণে ধার বাড়ে। একের পর এক আক্রমণ হেনে গোল বাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তারা। ৫৯ মিনিটে জুয়ান বাকের ভলি পোস্টের বাইরে দিয়ে না গেলে ভিয়েতনামের ব্যবধান দ্বিগুণ হতো। ৬২ মিনিটে আবারও লক্ষ্যভেদের চেষ্টা করেন বাক। কর্নারের বিনিময়ে কোনাকুনি সেই শট ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ। ৭৪ মিনিটে লে ভিক্টরের ভলিও বিপদমুক্ত করেন তিনি। তিন মিনিট পর গোলের খুব কাছেই ছিল ভিয়েতনাম। গুইয়েন কুয়োক ভিয়েতের শট শ্রাবণ ঠেকালেও বাংলাদেশের রক্ষণ ছিল বিপদের মুখে। ফিরতি বল থেকে পাওয়া পাসে লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করেন ভিক্টর। কিন্তু তার শট ফিরে আসে বারে লেগে।
৮২ মিনিটে ব্যবধানে বাড়ে ভিয়েতনামের। কর্নার থেকে ফাম ডি লুকের হেড পোস্টের একদম সামনে থেকে বদলি খেলোয়াড় লি ভিক্তর হেডেই জড়িয়ে দেন জালে।
শেষ মুহূর্তে তাদের আরও একটি প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরলে ব্যবধান আর বাড়েনি। বাংলাদেশ এই অর্ধে সুযোগ পায়নি বললেই চলে। শুধু রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিল।
৬ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।