মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেডে নতুন পরিচালনা পর্ষদ এসেছে। ক্লাবটিকে ঘিরে নতুন করে জাগরণের চেষ্টা শুরু হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবে মঙ্গলবার উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রত্যাশা—আবাহনী-মোহামেডানের সেই পুরোনো দ্বৈরথ আবার ফিরে আসুক।
এদিন মোহামেডান ক্লাব প্রাঙ্গণে রাজনীতিবিদ ও ক্রীড়াবিদদের উপস্থিতিতে তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সৌজন্য সফরে আরও কয়েকজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সাবেক তারকা ফুটবলারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খেলাধুলার অঙ্গনে এলে মনে হয় আমি নিজের ঘরে এসেছি। আমি মফস্বলের মানুষ, খেলাধুলা করেছি। আমরা অন্ধকার সময় পেরিয়ে এসেছি। এখন নতুন স্বপ্ন দেখি, নতুন আলো দেখি। নতুন সূর্যের আলোয় ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে সাজাতে চাই।’
সম্প্রতি ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু হওয়া ক্রীড়া ভাতা ও কার্ড প্রদান কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরে আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয় বলেছিলেন, তার পরিকল্পনায় ক্রীড়া রয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ক্রীড়াবিদদের ভাতা ও কার্ড দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়রাও অনুপ্রাণিত হবে।’
মোহামেডানের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মোহামেডান শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির বহু গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তের সঙ্গে এই ক্লাব জড়িয়ে আছে।’ ক্রীড়াঙ্গনের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি, ‘দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অরাজনৈতিক ঐক্য, স্বচ্ছতা এবং মেধার মূল্যায়ন।’
গ্যালারির চিরচেনা উন্মাদনা ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিকেট দেখতে যাই। মোহামেডান-আবাহনীর ফুটবল দেখতে চাই। আমি সেই দৃশ্য দেখতে চাই—জাতীয় স্টেডিয়ামে মোহামেডান-আবাহনী খেলছে, আর আমরা বাইরে মারামারি করছি।’
অনুষ্ঠানে মোহামেডানের পাশাপাশি আবাহনীসহ সব ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক। মোহামেডানের এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন আবাহনীর অন্যতম পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুও। তিনি বলেন, ‘আজ যেন ঈদের আনন্দ লাগছে। এটি এক সুন্দর মিলনমেলা।’
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী শরিফুল আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদ উজ-জামান মিল্লাত এবং মোহামেডানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরকতউল্লাহ বুলুসহ অনেকে।