সেই দিয়াবাতের গোলে মোহামেডানকে হারিয়ে আবাহনীর ‘প্রতিশোধ’

সুলেমানে দিয়াবাতেকে মোহামেডানের ঘরের ছেলে হিসেবে সবাই জানতো। হঠাৎ গত মৌসুমে সাদা কালো শিবির থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডে নাম লেখানোটা ছিল চমকের। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সেই মালির স্ট্রাইকারের গোলেই মোহামেডানকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে আবাহনী। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে আজ ফিরতি পর্বের খেলায় পিছিয়ে থেকেও মারুফুল হকের দল ২-১ গোলে সাদা কালোদের হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে ভালোভাবে টিকে রইলো। এর আগে প্রথম পর্বে আবাহনীকে হারিয়ে ছিল মোহামেডান।

১৮ ম্যাচের লিগে ১১ রাউন্ড শেষে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে বসুন্ধরা কিংস। ১২ ম্যাচে ষষ্ঠ জয়ে ২২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আবাহনী। অন্যদিকে সমান ম্যাচে মাত্র ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তম স্থানে নেমে গেছে মোহামেডান।

কুমিল্লা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে মোহামেডান এগিয়ে যায়। 

তৃতীয় মিনিট কর্নার থেকে ‘অলিম্পিক’ গোল করে মোহামেডানকে এগিয়ে দেন মুজাফফর মুজাফফরভ। বাঁ-দিক থেকে নেওয়া উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডারের কর্নার কিক সরাসরি দ্বিতীয় পোস্টের ভেতরে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। মিতুল মারমা কিছুই করতে পারেননি।

সেই লিড ধরে রাখা যে কঠিন হবে সাদা-কালোদের জন্য আবাহনীর কৌশলেই তার ইঙ্গিত মেলে। ১৭ মিনিটে ঠিকই আকাশী-নীলদের সমতায় ফেরান মিরাজুল ইসলাম। এমেকা ওগবাহর পাস থেকে একজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে মোহামেডান গোলকিপার সুজন হোসেনকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দারুণ ফিনিস করেন এ স্ট্রাইকার।

বিরতির পর আবাহনী চাপ দিতে থাকে সাদা কালোদের রক্ষণে।

৬৬ মিনিটে আরও একটি দুর্দান্ত পাসে আবাহনীকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন এমেকা। তিন ফুটবলারকে কাটিয়ে কাটব্যাকে সুলেমান দিয়াবাতের কাছে বল পাঠান তিনি। বক্সের ভেতরে ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে দুই ফুটবলারের মাঝখান দিয়ে নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করেন দিয়াবাতে।

শেষ দিকে মোহামেডান অন্তত তিনটি সুযোগ নষ্ট করে। মিনহাজুল রাকিবের শট এক ডিফেন্ডার রুখে দেন। মুজাফফরভ বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ফ্রি কিক পেয়ে ক্রস বারের অনেক ওপর দিয়ে মেরে দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন।

যোগ করা সময়ে কর্নারে বোয়েটাংয়ের হেড পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে গেলে সমতায় ফেরা হয়নি আলফাজ আহমেদের দলের।

রেফারি জসিমের শেষ বাঁশি বাজতেই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় আকাশী-নীল জার্সিধারীদের। 

এ সময় সাবেক দলের খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরে নস্টালজিক হয়ে পড়েন দিয়াবাতে।