৯ বছর অপেক্ষার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে স্নায়ুচাপের ম্যাচে ২-১ গোলে হারলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে বার্সেলোনাকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত শেষ চারের টিকিট কেটেছে তারা।
শেষ বাঁশি পর্যন্ত মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে ছিল দমবন্ধ করা উত্তেজনা। কাজটা প্রথম লেগেই সেরে ফেলেছিল অ্যাতলেতিকো। ন্যু ক্যাম্পে জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে। সেই অগ্রগামিতাই শেষ পর্যন্ত তাদের এগিয়ে রেখেছে।
যদিও কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে শুরুতেই বার্সেলোনা ঝড় তুলে প্রথমার্ধে দুটি গোল করে সমতা ফেরায়। চতুর্থ মিনিটে ক্লেমেন্ট লেংলেটের ভুল কাজে লাগিয়ে লামিনে ইয়ামাল গোল করে বার্সাকে এগিয়ে দেন।
এরপর ২৪ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন তোরেস নিজেই। দানি ওলমোর পাসে দৌড়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। তার পর বার্সা প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিতে থাকলে চাপের মুখে পড়ে অ্যাতলেতিকো। কিন্তু তবু ভেঙে পড়েনি অ্যাতলেতিকো। ৩১ মিনিটে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় তারা। ডান দিক দিয়ে দৌড়ে গিয়ে মারকোস লোরেন্তে নিচু ক্রস বাড়ালে দূরের পোস্টে থাকা আদেমোলা লুকম্যান ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে জাল কাঁপান। এতে আবারও দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় স্বাগতিক অ্যাতলেতিকো।
বিরতির পর বার্সেলোনা বল দখলে আধিপত্য দেখায় ঠিকই। পেদ্রি ও গাভি মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেন, তোরেসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিলও হয়। তার ওপর ম্যাচের শেষ দিকে এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনে পরিণত হয় বার্সেলোনা। সেই চাপ আর তারা সামলাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে অ্যাতলেতিকো। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্সেনাল বা স্পোর্টিংয়ের ম্যাচে জয়ীদের কেউ।
প্রথম লেগে প্যারিসে পাওয়া লিডের ওপর ভর করে ম্যাচে নামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক লিভারপুলের টানা আক্রমণ এবং গ্যালারিভর্তি দর্শকদের তুমুল সমর্থন সামলে নিজেদের জায়গা ধরে রাখে ফরাসি জায়ান্টরা। ফলে সাত মৌসুমে পঞ্চমবারের মতো তারা শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার পাস থেকে বল পেয়ে উসমান দেম্বেলে ২০ গজ দূর থেকে দারুণ বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান।যোগ করা সময়ের শুরুতে আবারও বারকোলার ক্রস থেকে বল পেয়ে সহজ ফিনিশে নিজের জোড়া গোল পূরণ করেন দেম্বেলে। সেমিফাইনালে পিএসজির প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ বা রিয়াল মাদ্রিদের কেউ।