বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলায় উৎসাহ জোগানো ফেনীর সেই প্রাথমিক স্কুলশিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলিকে এবার দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানালেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর অফিস কক্ষে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সৈয়দা খালেদা আক্তার পলি।
এর আগে ঈদুল আজহার সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে দীর্ঘ আলাপ হলেও আজ সচিবালয়ে এই গুণী শিক্ষিকাকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী তার এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং মাঠ পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গনে পলির এই অনন্য উদ্যোগকে একটি দারুণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেশের নারী ক্রীড়াচর্চাকে আরও এগিয়ে নিতে প্রতিমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি সৈয়দা খালেদা আক্তার পলিকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এবং একইসঙ্গে ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাকে এবং তার বিদ্যালয়ের ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন গিল্লাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পলির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উৎসাহ দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। মাঠের কড়া শৃঙ্খলা ও অকৃত্রিম ক্রীড়াপ্রেমের এই চিত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তার নির্দেশনায় ২৬ মে জেলা প্রশাসন ওই শিক্ষিকার বাসায় বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেয়।
পারিবারিকভাবেই ক্রীড়া ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ পরিবারের সন্তান সৈয়দা খালেদা আক্তার পলি। তার বাবা সৈয়দ মমিনুল ইসলাম একসময় ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবের ফুটবলার ছিলেন, ভাই সৈয়দ মামুনুল হাসান ছিলেন ফেনী জেলার নামী ফুটবলার এবং তার প্রয়াত স্বামী গোলাম রব্বানী ছিলেন সকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট। পলি নিজেও একসময় হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলেছেন।