গ্রুপ সি-তে কাগজে-কলমে সবচেয়ে এগিয়ে ব্রাজিল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, প্রত্যাবর্তনের গল্পও অনেক সময় বড় চমক উপহার দেয়। স্কটল্যান্ড ও হাইতি সেই স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে। তবে ব্রাজিল চাইবে দুই দশকের বেশি সময়ের শিরোপা খরা কাটানোর পথে প্রথম পদক্ষেপটি দৃঢ়ভাবে রাখতে। মরক্কোও প্রমাণ করতে চাইবে কাতারের সাফল্য বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা ছিল না।
এবার দেখে নেওয়া যাক তাদের অতীত ইতিহাস-
ব্রাজিল
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল ২০০২ সালে। এরপর থেকে বারবার শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মঞ্চে এলেও শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হয়েছে সেলেসাওদের।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ২০১৪ সালে স্বাগতিক হিসেবে সেমিফাইনালে উঠলেও জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জাজনক হার এখনও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের দুঃস্বপ্ন। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
এবার দলের নেতৃত্বে থাকবেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও বার্সেলোনার উইঙ্গার রাফিনহা। তবে হাঁটুর চোটে বিশ্বকাপ মিস করছেন রিয়াল মাদ্রিদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড রদ্রিগো।
ব্রাজিল এমনিতেই বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হতাশাজনক হারসহ একাধিক ব্যর্থতার পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দিয়েছে।
আনচেলত্তি দলকে বিশ্বকাপে তুলতে সক্ষম হলেও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বে ব্রাজিল শেষ করেছে পঞ্চম স্থানে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী এই কোচের বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা অবশ্য সীমিত। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ইতালির সহকারী কোচ ছিলেন তিনি। সেবার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছেই হেরেছিল ইতালি।
গত বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান অর্জন করে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনও আফ্রিকান দলের সেরা সাফল্য সেটিই।
কাতারে শেষ ষোলোতে স্পেন এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে থামতে হয় তাদের।
তবে বিশ্বকাপের আগে দলটি এসেছে এক অস্থির সময় পার করে। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে সেনেগালের কাছে হারলেও পরে সেই ফল বাতিল করে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)। রেফারির অনুমতি ছাড়া মাঠ ছাড়ায় সেনেগালের কাছ থেকে কাপ ছিনিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
ফাইনালের পর দায়িত্ব ছাড়েন কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই। ফলে বিশ্বকাপে নতুন কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে খেলবে মরক্কো। যুব বিশ্বকাপে মরক্কোর অনূর্ধ্ব-২০ দলকে শিরোপা জেতানোর কৃতিত্ব রয়েছে তার।
ক্যারিবীয় দেশ হাইতির জন্য এবারের বিশ্বকাপ এক ঐতিহাসিক উপলক্ষ। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে যাচ্ছে দলটি।
কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাই পর্বে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে টিকিট নিশ্চিত করেছে হাইতি। তবে ১৯৭৪ সালের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। ইতালি, পোল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার কাছে টানা তিন ম্যাচ হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবারও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে তারা। ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান মিনের অধীনে থাকা দলটি বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৮৩তম দল। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের মধ্যে কেবল নিউজিল্যান্ডই তাদের নিচে অবস্থান করছে।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ডুকেন্স নাজো। বাছাই পর্বে ছয় গোল করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ছিলেন তিনি। কোস্টারিকার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে হ্যাটট্রিক করাও ছিল তার অন্যতম স্মরণীয় অর্জন।
প্রায় তিন দশকের অপেক্ষার পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে স্কটল্যান্ড। ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম তারা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। গত বছরের শেষ বাছাই ম্যাচে ডেনমার্ককে নাটকীয়ভাবে ৪-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে স্কটিশরা। সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন দলের অন্যতম তারকা স্কট ম্যাকটোমিনে।
২০১৯ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা স্টিভ ক্লার্ক স্কটল্যান্ডকে টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম কোচ হতে যাচ্ছেন। এর আগে ২০২০ ও ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে।
বিশ্বকাপে আগের আটবারের অংশগ্রহণে কখনও গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি স্কটল্যান্ড। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিল। সেবার শিরোপাধারী ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাত্রা শুরু হয়েছিল স্কটিশদের।