বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবসরের গুঞ্জনে মুখ খুললেন সন 

বয়স হয়েছে ৩৩। তার ওপর সাম্প্রতিক বাজে পারফরম্যান্সে অনেকে এই বিশ্বকাপকে দক্ষিণ কোরিয়া অধিনায়ক সন হিউং মিনের শেষ বিশ্বকাপ ভাবছেন। আসলেই কি তাই? বিশ্বকাপ মাঠে নামার আগে অবসরের গুঞ্জন অবশ্য পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। 

শুক্রবার গ্রুপ ‘এ’ র ম্যাচে সকাল ৮টায় চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে এশিয়ার সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ দলগুলোর একটি দক্ষিণ কোরিয়া। এখন পর্যন্ত ১১টি বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। বছরের পর বছর দক্ষিণ কোরিয়া দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সন এখনও কোচ হং মিয়ং-বোর দলের অন্যতম ভরসার নাম। ‘এ’ গ্রুপে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেও শুরুর একাদশে থাকছেন তিনি। তবে ২০২৫ সালে টটেনহ্যাম হটস্পার ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে গোলের সামনে আগের ধার কিছুটা হারিয়েছেন সন। সাম্প্রতিক সময়ে গোলখরাও ভুগিয়েছে তাকে। কিন্তু সন ম্যাচের আগে বলেছেন, ‘আমি একবারও বলিনি এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আমার।’

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন হং মিয়ং-বো। এর আগে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে তার অধীনেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল দলটি। ম্যাচের আগে হং বলেছেন, ‘প্রধান কোচ হিসেবে এটি আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৪ সালে আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম, তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখন পর্যন্ত আমরা অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি এবং ভালোভাবেই প্রস্তুত আছি।

ম্যাচটি হবে মেক্সিকোর এস্তাদিও গুয়াদালাহারায়। যেখানে উচ্চতাজনিত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না বলেও স্বীকার করেছেন কোচ ও অধিনায়ক দুজনই। হংয়ের ভাষায়, ‘আমার মনে হয় আমাদের সব খেলোয়াড়ই এখন উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে এবং ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।’

নকআউট পর্বে উঠতে হলে প্রথম ম্যাচ থেকেই ইতিবাচক ফল প্রয়োজন, সেটা ভালো করেই জানে দক্ষিণ কোরিয়া। কারণ দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। হং বলেছেন, ‘মেক্সিকো ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী শক্তি। তারা স্বাগতিক দল এবং ঘরের মাঠের সুবিধাও পাবে। তবে আমাদের এখন প্রথম ম্যাচেই মনোযোগ দিতে হবে, এরপর দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়ে ভাববো।’

অধিনায়ক সনও একই সুরে বলেছেন, ‘আমাদের সামনে তিনটি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে খেলবো।’