মেক্সিকো সিটির আবেগ আর টরন্টোর আদিবাসী সুর পেরিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তিন-দেশের উদ্বোধনী ট্রিলজির শেষ অধ্যায় রচিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে।
স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে চারটায়, বাংলাদেশ সময় শনিবার (১৩ জুন) ভোর সাড়ে ৫টায় লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের গ্রুপ ডি ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হয় এই অনুষ্ঠান। ১৯৯৪-এর পর এই প্রথম ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বিভিন্ন ডায়াস্পোরার প্রাণশক্তি এবং সংগীতের মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করার শক্তির প্রতিফলন।
ড্রামলাইনের গর্জন দিয়ে শুরু, তারপর ফিউচার-টাইলার ঝড়
একটি চমৎকার ড্রামলাইনের তীব্র বাদ্যি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপরই মঞ্চ মাতাতে আসেন র্যাপার ফিউচার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান পপস্টার টাইলা। তারা একসঙ্গে পরিবেশন করেন তাদের যুগলবন্দি গান ‘Game Time’। লাল-সাদা বোম্বার জ্যাকেটে ফিউচার, আর হাতের হাতায় সাদা তারা আঁকা পোশাকে টাইলা, দুজন মিলে পুরো স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে দিলেন এক অদম্য শক্তি।
তিন মহাদেশের সুর এক মঞ্চে
এরপর এলো সন্ধ্যার সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় পারফরম্যান্স। ব্ল্যাকপিংকের লিসা, ব্রাজিলিয়ান পপস্টার আনিত্তা এবং নাইজেরিয়ান র্যাপার রেমা মিলে প্রথমবারের মতো লাইভ পরিবেশন করলেন তাদের বহুভাষিক গান ‘Goals’। ল্যাটিন পপ, কে-পপ আর আফ্রোবিটের এক অসাধারণ মিশ্রণ। তিনজনই পরেছিলেন সাদা পোশাক। লিসা ইংরেজিতে শুরু করলেন, আনিত্তা টানলেন ইংরেজি, স্প্যানিশ ও পর্তুগিজে, আর রেমা যোগ করলেন আফ্রোবিটের তাল। তিন মহাদেশের সুর মিলে একাকার হয়ে গেল হলিউডের আকাশে।
ক্যাটি পেরি ও ১০ বছরের টিউস
রাতের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি তৈরি করলেন পপ রানী ক্যাটি পেরি। রুপালি গাউন পরে মঞ্চে এলেন তিনি, সাথে ১০ বছর বয়সী নরওয়েজিয়ান শিল্পী টিউস লুকা। দুজন মিলে পরিবেশন করলেন ‘Wonder’— পেরি গানের কোরাসে গলা ছাড়লেন, আর ছোট্ট টিউস গাইলেন শেষের সুর। টিউস এই গানে প্রথম কণ্ঠ দিয়েছিল মাত্র পাঁচ বছর বয়সে, ২০২১ সালে। সেই কণ্ঠ শুনেই পেরি গানটির কথা লিখেছিলেন। পাঁচ বছরের কণ্ঠ থেকে দশ বছরের মঞ্চ, এই গল্পটাই হয়ে উঠলো রাতের সেরা আখ্যান।
জাতীয় সঙ্গীত ও বিনোদনের শহরের ছোঁয়া
কান্ট্রি-পপ জুটি ড্যান + শে পরিবেশন করলেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত, আর প্যারাগুয়ের জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন পুরাহেই সোল। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অ্যাম্বাসেডর ও Ted Lasso তারকা জেসন সুডেইকিস দর্শকদের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্বাগত জানালেন। হাস্যরসে মেশানো তার উপস্থাপনায় স্টেডিয়ামে ফিরে এলো একটা পরিচিত উষ্ণতা।
ট্রিলজির শেষ বিন্দু
তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানই পরিচালনা করেছেন অলিম্পিক ওপেনিং সেরিমনির অভিজ্ঞ ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচ। মেক্সিকো সিটিতে শাকিরা-বার্না বয়ের আগুনঝরা রাত, টরন্টোতে আদিবাসী ঐতিহ্য আর ম্যাপেল পাতার আবেগ, আর লস অ্যাঞ্জেলেসে হলিউডি জাঁকজমক— এই তিন অধ্যায় মিলিয়ে শেষ হলো বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম তিন-দেশীয় উদ্বোধনী উৎসব।
এবার মঞ্চ থেকে মাঠে। ঘরের মাটিতে, ঘরের দর্শকের সামনে যুক্তরাষ্ট্র নেমেছে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। ১৯৯৪-এর পর প্রথমবারের মতো নিজের দেশে বিশ্বকাপ খেলার সেই পুরনো রোমাঞ্চ ফিরিয়ে নিয়ে।