সান্তা ক্লারার লেভি’স স্টেডিয়ামে শনিবার (১৩ জুন) রাতে লেখা হলো এক অদ্ভুত গল্প। ৮৯ মিনিট ধরে যে সুইজারল্যান্ড তিন পয়েন্টের স্বপ্ন বুকে নিয়ে মাঠ শাসন করলো, শেষ মুহূর্তে সেই স্বপ্ন ভেঙে দিলো কাতারের ডিফেন্ডার বুয়ালেম খুখির একটি মাথা। স্কোর থামলো ১-১-এ। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি গ্রুপ ‘বি’-তে কানাডা-বসনিয়ার ড্রয়ের পর এক নতুন মোড় এনে দিলো গ্রুপের সমীকরণে।
ম্যাচের শুরু থেকেই সুইসরা একের পর এক আক্রমণে কাতারের রক্ষণে ঝড় তুললো। ১০ মিনিটের মধ্যেই ড্যান এনডোয়ে দুটি বড় সুযোগ পেলেন— প্রথমটি গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা থামালেন, দ্বিতীয়টি গেল বারের ওপর দিয়ে।
১৩ মিনিটে এলো সেই নাটকীয় মুহূর্ত। বক্সের ভেতরে ছুটে যাওয়া রেমো ফ্রয়লারকে লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে মারাত্মক ফাউল করলেন গোলরক্ষক আবুনাদা। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজালেন, কিন্তু ভিএআর চেক শুরু হলো অফসাইডের সম্ভাবনা নিয়ে। মাঠের সাইডলাইনে তখন টেনশনের পারদ চড়ছে। ধারাভাষ্যকার লি ডিক্সন মন্তব্য করলেন, “ফাউল নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই, তবে সে অফসাইডে ছিল কিনা দেখার বিষয়।” দীর্ঘ পরীক্ষার পর ভিএআর মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলো— পেনাল্টি বহাল।
স্পটকিকে এলেন ব্রিল এমবোলো। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২৫তম গোলে শীতল ফিনিশে বল জালে জড়ালেন ১৬ মিনিটে। সুইজারল্যান্ড এগিয়ে গেলো ১-০।
প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ড কাতারের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ১৪টি শট নিলো, যার মধ্যে ৭টিই ছিল অন-টার্গেট। কাতার গোলরক্ষক আবুনাদা ও ডিফেন্ডাররা প্রাণপণ লড়ে বারবার সুইসদের গোলমুখী শট থামালেন। তবে ১৬ মিনিটের পেনাল্টি গোলটাই হয়ে রইলো প্রথমার্ধের একমাত্র পার্থক্য। বিরতিতে সুইজারল্যান্ড এগিয়ে ১-০।
দ্বিতীয়ার্ধে কাতার কিছুটা ছন্দ খুঁজে পেলেও সুইসদের দাপট থামলো না। ম্যাচ যখন তার শেষ নিঃশ্বাসে, যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে— ঠিক তখনই ঘটলো সেই ঘটনা।
হোমাম এল আমিনের বিপজ্জনক একটি ক্রস উড়ে এলো বক্সের ঠিক মাঝখানে। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন কাতারের অধিনায়ক বুয়ালেম খুখি। উঁচুতে লাফিয়ে উঠে তিনি যে হেডটি নামালেন— বল সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে পরাস্ত করে পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালে গেলো। কাতারের বেঞ্চ উঠে দাঁড়ালো, সুইস শিবির স্তব্ধ।
স্কোর ১-১। ম্যাচ শেষ।
কানাডা-বসনিয়ার পর এবার সুইজারল্যান্ড-কাতারও ড্র। গ্রুপ ‘বি’-র চারটি দলই শুরু করলো এক পয়েন্ট নিয়ে। সুইজারল্যান্ড ৪৫ মিনিটে ১৪টি শট নিয়ে, একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েও পূর্ণ পয়েন্ট পেলো না। আর কাতার, যারা ২০২২ সালে নিজেদের মাঠে আয়োজক হিসেবে সব ম্যাচ হেরেছিল এবং এবারই প্রথম যোগ্যতার্জনের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এসেছে, তারা শেষ মুহূর্তে লড়াই করে একটি পয়েন্ট ছিনিয়ে নিলো।