ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে একই রকম অঘটনের স্বপ্ন দেখছিল। শুরুতে মাঠে উপভোগ্য লড়াই উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে পেরে উঠেনি। উল্টো শেষ দিকে লাল কার্ডে দশ জনের দলে পরিণত হয়েছে। তাদের ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে সুইজারল্যান্ড।
দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচের শেষ দিকে এসে ঝড় তোলে সুইজারল্যান্ড। ১০ জনের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ দিকের ঝড়ে চার গোল করে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করেছে তারা। এই জয়ে শেষ ৩২-এ ওঠার পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেলো সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচের ৭৩ মিনিট পর্যন্ত কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও শেষদিকে আক্রমণের তীব্রতায় উড়ে গেছে বসনিয়া। জোহান মানজাম্বি বদলি হয়ে নামার পরই দৃশ্যপট বদলায়। ৭১ মিনিটে মাঠে নামার পর ৭৪ মিনিটেই প্রথম গোলটি আসে তার পা থেকে। দারুণ এক ফিনিশিংয়ে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন মানজাম্বি। কিছুক্ষণ পর আরও বিপদ বাড়ে বসনিয়ার। ৮০ মিনিটে ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশ জনের দলে পরিণত হয় তারা। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ৪ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রুবেন ভার্গাস।
৯০ মিনিটে মানজাম্বি নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখাা পান। যোগ করা সময়ে একটি গোল শোধ দিয়েছিল বসনিয়া। এরমিন মাহমিচ গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমালেও শেষ হাসি হাসে সুইজারল্যান্ডই। ম্যাচের একেবারে শেষদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করেন অধিনায়ক গ্রানিত জাকা।
সুইজারল্যান্ড শেষদিকে যদিও গোলের বন্যা বইয়েছে। তার আগে দীর্ঘ সময় হতাশ করেছে তারা। বিশেষ করে বসনিয়ার রক্ষণের দৃঢ়তা এবং নিজেদের দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে গোলের দেখা পাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত এই জয়ে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পূর্ণ তিন পয়েন্টের স্বাদ পেয়েছে তারা।
গ্রুপ ‘বি’-তে দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে এক পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে রয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।