অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, ৯৬ বছরে প্রথমবার পরপর দুই জয়

সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে যুক্তরাষ্ট্র লিখলো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ৯৬ বছরে প্রথমবারের মতো পরপর দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচ জিতলো। ১৯৩০ সালের পর এমন কিছু ঘটেনি দলটির ইতিহাসে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ জয়ের পর আজকের এই জয়ে নকআউট পর্ব একরকম নিশ্চিত হয়ে গেল পচেত্তিনোর দলের। 

প্রথমার্ধ: আত্মঘাতী গোল ও ভিএআর নাটক 

১১ মিনিটে ফোলারিন বালোগুনের চাপে ভুল করে বসেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্গেস, বালোগুনের বিপজ্জনক ক্রস তাঁর পায়ে লেগে নিজের জালেই চলে যায়। মজার বিষয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পাওয়া দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল এই বিশ্বকাপে, প্যারাগুয়ে ম্যাচেও একই ঘটনা ঘটেছিল। বিশ্বকাপের প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম যখন কোনও দল তার প্রথম দুই ম্যাচেই প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায়। 

৪৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল। সের্হিনিও ডেস্টের শট অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে উঁচুতে উঠে যায়, আর অ্যালেক্স ফ্রিম্যান গোলরক্ষকের আগে বলে পৌঁছে হেডে জালে পাঠান। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষার পর গোল বহাল থাকে, জর্ডান বসই ফ্রিম্যানকে অনসাইডে রেখেছিলেন।

৩৯ মিনিটে ফ্রিম্যান ও অস্ট্রেলিয়ার পল ওকন-এংস্টলারের সংঘর্ষে উভয়কে কনকাশন পরীক্ষা করাতে হয়, তবে দুজনেই খেলা চালিয়ে যান। আলেসান্দ্রো সিরকাটি মালিক টিলম্যানকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। বিরতির ঠিক আগে আরেকটি ঘটনা— ফ্রিম্যান বক্সের ভেতরে বসকে ফাউল করেন, যা নিয়ে দুই দলের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়, তবে শান্তভাবেই দুই দল ড্রেসিংরুমে ফেরে। 

বিরতিতে বল দখলে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ৭০ শতাংশ, পাসিং অ্যাকুরেসি ৮৮ শতাংশ— অস্ট্রেলিয়ার ৬২ শতাংশের তুলনায় অনেক এগিয়ে। 

দ্বিতীয়ার্ধ: অস্ট্রেলিয়ার চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় রক্ষণ

দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রেলিয়া মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে। ম্যাথু লেকি ও নিশান ভেলুপিল্লাইকে ঘিরে বেশ কয়েকটা বিপজ্জনক মুহূর্ত তৈরি হয়। একপর্যায়ে ইতালিয়ানোর ক্রস থেকে গেরিয়ার শট অ্যাডামস ব্লক করেন। বক্সের ভেতরে কয়েকবার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণ অটুট থাকে।

আক্রমণেও বিপজ্জনক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। শেষ দিকে সের্হিনিও ডেস্ট প্রায় ব্যবধান ৩-০ করে ফেলেছিলেন, কিন্তু প্যাট্রিক বিচ দুর্দান্ত সেভে রক্ষা করেন অস্ট্রেলিয়াকে। 

শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থেকে যায়— ২-০। 

গ্রুপ ‘ডি’-তে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য 

দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট, গোল ব্যবধান +৫ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন গ্রুপ পর্বের নকআউটে যাওয়া নিশ্চিত করে ফেলেছে। তুরস্কের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে হারলেও— যদি তুর্কিয়ে প্যারাগুয়েকেও হারায় — তবেই কেবল গ্রুপের শীর্ষস্থান হাতছাড়া হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের। অন্যথায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই এগিয়ে যাবে স্বাগতিকরা। 

পুলিসিক ছাড়াই দুই ম্যাচে আট গোল করা যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগ প্রমাণ করলো এই দলের আক্রমণে গভীরতা অনেক। বালোগুন, ফ্রিম্যান, ডেস্ট— প্রত্যেকেই অবদান রাখছেন। অস্ট্রেলিয়ার জন্য হতাশার রাত, কিন্তু এখনও তুরস্কের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে নকআউটের সুযোগ বেঁচে আছে তাদের।