চলতি বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের বন্যা, বেশি লাভবান যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে আত্মঘাতী গোল। টুর্নামেন্টের শুরুতেই একের পর এক দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোল দেখা গেছে। যার বেশি সুবিধা পেয়েছে অন্যতম সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত সাতটি আত্মঘাতী গোল হয়েছে- যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

এর চেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল দেখা গেছে শুধু ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে। সেবার খেলোয়াড়রা ১২ বার নিজেদের জালে বল জড়িয়েছিলেন। তবে এবারের আসরে দলসংখ্যা ৪৮ এবং ম্যাচসংখ্যা ১০৪ হওয়ায় সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। টুর্নামেন্টের এক-তৃতীয়াংশ পথও এখনও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে চোখ ধাঁধানো গোলের পাশাপাশি আত্মঘাতী গোলও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আত্মঘাতী গোল শুরু হয় প্যারাগুয়ের ডামিয়ান বোবাদিয়ার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই তিনি ভুল করে নিজের জালে বল পাঠান। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্গেসকেও নিজেদের জালে বল পাঠাতে বাধ্য করেন। ফলে গ্রুপ ‘ডি’-তে টানা দুই জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আত্মঘাতী গোলের সুবাদে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতারও। সুইজারল্যান্ডের মিরো মুইহেইম আত্মঘাতী গোল করেন শেষ দিকে। পরে কানাডার বিপক্ষে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারের ম্যাচেও আত্মঘাতী গোল করেন কাতারের মোহাম্মদ মানাই।

এছাড়া মিসরের মোহামেদ হানি, ইরাকের আইমান হুসেইন এবং জর্ডানের ইয়াজান আল-আরবও নিজেদের জালে বল জড়িয়েছেন। তবে আইমান হুসেইনের ঘটনা ছিল আরও ব্যতিক্রমী। নরওয়ের বিপক্ষে একই ম্যাচে তিনি একদিকে নিজের জালে গোল করেছেন, অন্যদিকে ইরাকের হয়েও গোল করেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে দুই দলের হয়ে গোল করা মাত্র তিনজন খেলোয়াড়ের একজন তিনি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মোট ৬১টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশই এসেছে চলতি আসরে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম আত্মঘাতী গোলটি হয়েছিল ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে। চিলির বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের ম্যাচে মেক্সিকোর ১৮ বছর বয়সী ম্যানুয়েল রোসাস নিজের জালে বল পাঠিয়েছিলেন।

এ পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপ কোনো আত্মঘাতী গোল ছাড়াই শেষ হয়েছে। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯০ বিশ্বকাপে।

এদিকে চলতি আসরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে হওয়া দুটি আত্মঘাতী গোল ইতোমধ্যে একটি রেকর্ড ছুঁয়েছে। এক আসরে কোনো দলের সবচেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল পাওয়ার রেকর্ডে তারা এখন যৌথভাবে শীর্ষে। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ফ্রান্সও একই সুবিধা পেয়েছিল।

ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোলের শিকার মেক্সিকো। তাদের খেলোয়াড়রা চারবার নিজেদের জালে বল জড়িয়েছেন। আর সবচেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোলের সুবিধা পেয়েছে ফ্রান্স। যাদের পক্ষে প্রতিপক্ষ ছয়বার নিজেদের জালে বল পাঠিয়েছে।