বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আজ ঘানার বিপক্ষে জিতলেই নকআউট নিশ্চিত করবে ইংল্যান্ড। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে রাত ২টায়। তবে ম্যাচ ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে আরেকটি নাম। তিনি হন্ডুরাসের সাইদ মার্তিনেজ। কারণ, ইংল্যান্ড–ঘানা ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এমন এক রেফারি, যিনি ফুটবল অঙ্গনে পরিচিত ‘এল মাতেমাতিকো’ বা গণিতবিদ নামে।
মাঠে তিনি ভীষণ কঠোর। কিন্তু ফুটবলের বাইরে তার পরিচয় একেবারেই ভিন্ন। এর আগে বিশ্বকাপে কাতার ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ১-১ গোলের ড্র হওয়া ম্যাচেও তিনিই ছিলেন প্রধান রেফারি। ৩৪ বছর বয়সী মার্তিনেজ সেই ম্যাচে তিনটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন এবং সুইজারল্যান্ডকে দিয়েছিলেন একটি পেনাল্টি। তবে তার পরিচিতি কেবল সিদ্ধান্তের জন্য নয়, বরং জীবনের ভিন্ন এক অধ্যায়ের জন্য।
‘এল মাতেমাতিকো’—স্প্যানিশ এই ডাকনামের অর্থ ‘গণিতবিদ’। গণিতে ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর শিক্ষকতা করছেন তিনি। সেখান থেকেই তার এই বিশেষ নামের জন্ম।
রেফারিংয়ের প্রতি ভালোবাসার জন্ম পরিবার থেকেই। তার বাবা ছিলেন একজন রেফারি। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই অল্প বয়সে মাঠে নামেন মার্তিনেজ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে হন্ডুরাসের শীর্ষ লিগে ম্যাচ পরিচালনা করে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী রেফারির রেকর্ড গড়েছেন।
এরপর ধাপে ধাপে কনকাকাফ অঞ্চলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অফিশিয়াল হয়ে ওঠেন মার্তিনেজ। ২০২১ ও ২০২৩ সালের গোল্ড কাপ ফাইনাল, পাশাপাশি ২০২৩ নেশনস লিগের ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
একই বছরে আলোচিত আরেকটি ম্যাচেও তিনি হয়ে ওঠেন কেন্দ্রীয় চরিত্র। ইন্টার মায়ামি ও ক্রুজ আজুলের মধ্যকার যে ম্যাচে লিওনেল মেসি ক্লাবটির হয়ে অভিষেক করেন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন মার্তিনেজও। ম্যাচটাতে যোগ করা সময়ে অবিশ্বাস্য এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
এবার তার সামনে আরেকটি বড় দায়িত্ব। বোস্টনে মঙ্গলবার ইংল্যান্ড ও ঘানার গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে তিনি থাকবেন রেফারিংয়ের দায়িত্বে। যে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের নকআউট নিশ্চিত করার মিশন, অন্যদিকে ঘানার টিকে থাকার লড়াই।