দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিল কঠিন প্রতিপক্ষ পেতে যাচ্ছে?

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ ড্র। পরের দুই ম্যাচে লাতিন ছন্দ দেখিয়ে গ্রুপ-সি এর চ্যাম্পিয়ন দল হয়েছে ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। জোড়া গোল পেয়েছে ভিনুসিয়াস জুনিয়র। ফিরেছেন দলের তারকা নেইমার। সবই স্বস্তির। কিন্তু এর ফাঁকেও একটি অস্বস্তি উঁকি দিচ্ছে ব্রাজিল শিবিরে। রাউন্ড অব ৩২-এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে নেদারল্যান্ডসের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ।

হিসাব অনুযায়ী গ্রুপ-সি-এর শীর্ষ দল ব্রাজিল মুখোমুখি হবে গ্রুপ-এফ রানারআপদের। ২৯ জুন হুউস্টন স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ম্যাচটিতে মাঠে নামবে।

গ্রুপ-এফ এর দলগুলো হলো- নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। ইতিমধ্যেই দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে তিউনিসিয়া ছিটকে পড়েছে। তবে বাকি তিন দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। বর্তমানে গ্রুপের শীর্ষ দল নেদারল্যান্ডস। দুইয়ে জাপান ও তিনি সুইডেন। এখান থেকে গ্রুপের ফাইনাল ম্যাচ শেষে যে দল দুইয়ে অর্থাৎ রানার্সআপ থাকবে তারা হবে ব্রাজিল পরের রাউন্ডের প্রতিপক্ষ।

বৃহস্পতিবার রাতে নেদারল্যান্ডস-তিউনিসিয়া ও জাপান-সুইডেন মুখোমুখি হবে। যদি নেদারল্যান্ডস ও জাপান নিজেদের ম্যাচে জিতে যায় সেক্ষেত্রে গোলের হিসাবে এক দল হবে চ্যাম্পিয়ন আরেকটি রানার্সআপ। বর্তমানে এই দুই দলের গোল ব্যবধান সমান। আজকে দুই দলই জিতলে যে বেশি ব্যবধানে জিতবে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে।

আবার নেদারল্যান্ডস জয় পেলে তারা গ্রুপের এক নম্বর দল হবে- এটা নিশ্চিত। তবে নেদারল্যান্ডস ড্র করলে বা হারলে ও জাপান-সুইডেন ম্যাচে এক দল জিতলে তারা হবে চ্যাম্পিয়ন। নেদারল্যান্ডস তখন রানার আপ হবে। তখন দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে ডাচরা।

আবার জাপান-সুইডেন ম্যাচ ড্র হলে, নেদারল্যান্ডস হারলে তখন জাপান হবে শীর্ষ দল। আর নেদারল্যান্ডস থাকবে দুইয়ে। নেদারল্যান্ডস তিনেও চলে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে অনেক সমীকরণ রয়েছে।

তবে গ্রুপ এফ-এ যে দল দ্বিতীয় হবে তারাই হবে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেনের যে কেউই প্রতিপক্ষ হতে পারে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন্সদের।

ব্রাজিলের জন্য নেদারল্যান্ডস কতটা কঠিন

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য এক বিভীষিকার নাম হলো নেদারল্যান্ডস। পাঁচবারের দেখায় দলটির কাছে তিনবার হেরেছে সেলেসাওরা। প্রথম দেখা হয় ১৯৭৪ সালে। যখন টোটাল ফুটবল দর্শন দিয়ে ডাচরা সবার নজর কেড়েছিল। সেই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তখনকার তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের ২-০ গোলে পরাজিত করে ক্রুইফের দল।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার দেখা। তবে এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল ৩-২ গোলে ডাচদের কাবু করে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফের দেখা। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ সমতায়। টাইব্রেকারে ব্রাজিল ৪-২ এ জয় নিয়ে ফাইনালে যায়।

২০১০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আবার দুই দলের দেখা। ডাচদের সঙ্গে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে ব্রাজিল। ২০১৪ বিশ্বকাপে নিজ মাঠে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ডাচদের কাছে পরাজয় বরণ করতে হয় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।