শেষ ৩২-এ অতিরিক্ত সময়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবে টুর্নামেন্টের অভিষিক্ত দলটির বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার দলটির রক্ষণভাগের দুর্বলতাও স্পষ্ট করে তোলে তারা। শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে জড়ালে নিষ্পত্তি হয় রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের।
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি সতর্ক করেছিলেন, গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করা কেপ ভার্দে কঠিন প্রতিপক্ষ হবে। তবে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলা একটি দলের কাছ থেকে এতটা প্রতিরোধ খুব কমই প্রত্যাশা করেছিলেন অনেকে।
গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার পর মঙ্গলবার আটলান্টায় মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে দলটিকে ঘিরে সমালোচনা আরও বাড়তে পারে।
এর আগেও আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ২০২২ বিশ্বকাপের পর চলতি বছরের জুনে আইসল্যান্ডই ছিল তাদের প্রথম ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ। ফলে তাদের রক্ষণভাগও দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিপক্ষের চাপে পড়ার বাস্তব পরীক্ষা দেয়নি।
রিভার প্লেটের সাবেক কোচ এবং ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা মার্সেলো গায়ার্দো মনে করেন, এই ম্যাচটি দলের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে তিনি বলেছেন, ‘তাতে ভালোই হয়েছে। এখন দলের প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে, অবশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।’
প্রথমার্ধে বিশ্বকাপে নিজের রেকর্ড ২০তম গোল করা লিওনেল মেসি ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন, কঠিন লড়াইয়ে শারীরিকভাবে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষের অর্ধে বল পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়ায় আর্জেন্টিনাকে অনেকটা সময় দৌড়ে কাটাতে হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক বলেছেন, ‘ওদের কাছেই বল ছিল। আমাদের দিয়ে ওরা অনেক দৌড় করিয়েছে, কারণ আমরা কার্যকরভাবে প্রেস করতে পারিনি। আমাদের লাইনগুলোর মধ্যে দূরত্বও বেশি ছিল।’
স্ক্যালোনি অবশ্য দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসাই করেছেন। ম্যাচের আগে যেমন বলেছিলেন, বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়—শেষেও সেই কথাই পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি, ‘সব সময়ই উন্নতির সুযোগ থাকে। তবে কঠিন মুহূর্তে দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালো খেলেছি নাকি খারাপ, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু এই দল কখনো ম্যাচের দায়িত্ব নিতে পিছিয়ে যায় না।’
আর্জেন্টিনার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সাম্প্রতিক সময়ে চোট কাটিয়ে ফেরা দুই ডিফেন্ডার। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে লিগামেন্টে চোট পাওয়া লিসান্দ্রো মার্তিনেজ দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের শুরুতে হাঁটুর চোটে ছিটকে পড়া ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ফিরে এসে জয়সূচক গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন।
মার্তিনেজ বলেছেন, ‘আমি যে সময়টা পার করেছি, তা খুব কঠিন ছিল। কিন্তু ক্লাব ও জাতীয় দলের সমর্থনে আজ আমি খুবই সুখী। এখানে থাকতে পারার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’