ডালাসে মিকেল মেরিনোর ৯১ মিনিটের নাটকীয় গোলে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শেষ ১৬ থেকেই বিদায় নিলো পর্তুগাল। আর সেই সঙ্গে শেষ হলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়।
ম্যাচ শেষে চোখ মুছতে মুছতে মাঠ ছাড়লেন ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়লেন, যেন একটা দীর্ঘ অধ্যায়ের বিদায়ী অভিনন্দন।
ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, “আমি আগামীকাল একই মেজাজে জেগে উঠবো যেভাবে আজ উঠেছিলাম।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আমার সেরাটা দিয়েছি। পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। আমি আসার আগে পর্তুগালের কোনও শিরোপা ছিল না, তাই আমি খুশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা, যা আমার কাছে বিশ্বকাপের সমান গুরুত্বের।”
রোনালদোর দাবিটা পরিসংখ্যানে সঠিক। ২০১৬ সালের ইউরো, ২০১৯ সালের নেশনস লিগ এবং ২০২৪ সালের নেশনস লিগ— এই তিনটি শিরোপা পর্তুগাল জিতেছে রোনালদোর নেতৃত্বে। তার আগে পর্তুগালের শিরোপার ঘর ছিল ফাঁকা।
কিন্তু যে শিরোপাটা কখনো আসেনি— বিশ্বকাপ। ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে যখন তিনি সত্যিকারের সেরা ছিলেন, তখন গড়ে ৫ দশমিক ৯টি শট ও ১১ দশমিক ৫টি ডুয়েল প্রচেষ্টা করেছিলেন। ৪১ বছর বয়সে সেই রোনালদো আর নেই।
এই বিশ্বকাপে তিনি মোট তিনটি গোল করেছেন— উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুটি আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি পেনাল্টি। কিন্তু নকআউটে আসা দলগুলোর বিরুদ্ধে ৩৫১ মিনিটে পর্তুগাল মাত্র দুটি গোল করেছে।
ম্যাচ শেষে চোখ ভিজিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করলেন রোনালদো, পর্তুগিজ সমর্থকদের উদ্দেশে হাত তুললেন। লামিন ইয়ামাল, ১৯ বছরের স্প্যানিশ বিস্ময়বালক যিনি এই ম্যাচেই রোনালদোর বিপক্ষে খেললেন— তার সাথে জার্সি বদল করলেন রোনালদো।