এবারের বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স করলেও অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে পাওয়া দুই পেনাল্টিই মিস করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। এখন পর্যন্ত সব ম্যাচে ৮টি গোল করলেও একটি পেনাল্টিও জালে জড়াতে পারেননি ক্ষুদে জাদুকর। এ নিয়ে সমালোচনাও শুনতে হচ্ছে তাকে। এই বিতর্কের মুখে সামনের ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি কে নেবেন সেই সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি।
চলতি বিশ্বকাপে মেসি তার দুটি পেনাল্টি শটই মিস করেছেন এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে হিসাব করলে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ৭টি পেনাল্টির মাত্র ৪টি গোল করতে পেরেছেন। তবে স্কালোনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মেসির অতীত কীর্তি এবং সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মের কারণে এই বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফিফা বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, প্রথম কথা হলো, লিও যদি চায় তবে সেই পেনাল্টি নেবে। আমাদের দলে পেনাল্টি নেওয়ার মতো আরও খেলোয়াড় আছে, কিন্তু ও যদি নিতে চায়, তবে ওই নেবে।
স্কালোনি আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, মাঠে সুবিধাজনক জায়গা তৈরি করতে মেসির যেকোনও পজিশনে যাওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে; যেমনটা তিনি মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের শেষ মুহূর্তে ডান প্রান্তে সরে গিয়ে করেছিলেন। সত্যি বলতে, আজকাল ও মাঝমাঠেই বেশি খেলে।
স্কালোনি বলেন, তবে আমাদের পুরো দল—বিশেষ করে ওর আশেপাশের খেলোয়াড়রা—ওর অবস্থান বুঝেই মুভ করে। এটা খুবই স্বাভাবিক। খেলার গতির সাথে এটি প্রাকৃতিকভাবেই ঘটেছিল। দল বুঝতে পেরেছিল যে ও ওই দিক থেকে বিপদ তৈরি করছে, বিশেষ করে প্রতিপক্ষের অন্য প্রান্তে পাস দেওয়ার মাধ্যমে, যেখানে সতীর্থরা পৌঁছে যেতে পারছিল। আমার মনে হয় বিষয়টি খুব স্পষ্ট ছিল।
মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছিলেন মেসি, এরপর নিজেই সমতাসূচক গোলটি করেন। এই টুর্নামেন্টে ৪১০ মিনিটে ১৫টি সুযোগ তৈরি করে তার ঝুলিতে এখন রয়েছে ৮টি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট। পেনাল্টিতে কিছুটা ভুগলেও, গত দুটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে ৩৬টি সুযোগ তৈরি করে তিনি ১৫টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। গত ২৪ জুন ৩৯ বছরে পা দেওয়া মেসির বয়স নিয়ে স্কালোনি তার শারীরিক দক্ষতায় তেমন কোনও পার্থক্য দেখছেন না।
স্কালোনি বলেন, লিও সবসময় যতটা দৌড়ায়, এখনও প্রায় ততটাই দৌড়াচ্ছে। এমন নয় যে ও হঠাৎ অনেক বেশি বা কম দৌড়াচ্ছে। পার্থক্যটা হলো, এখন ও যা কিছু করে তার সবই অনেক বেশি কার্যকরী ও ফলদায়ক। হয়তো যারা তাকে চেনে না, যারা ভেবেছিল ৩৯ বছর বয়সে ও এই স্তরে থাকতে পারবে না, তারা অবাক হচ্ছে। আমি বহুবার বলেছি, ও যতদিন খেলতে চাইবে, ওই সেরা থাকবে। এটাই আমি বিশ্বাস করি। আমি ওর কোচ বলেই বলছি না, যতদিন ওর খেলার ইচ্ছা থাকবে, ও-ই সেরা থাকবে।