অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) কানাসাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে মাঠে যেমন আধিপত্য দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা, ম্যাচের পরিসংখ্যানেও তেমনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল লিওনেল স্কালোনির দল।
পুরো ম্যাচে বলের দখলে ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণ। আর্জেন্টিনা ৫৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রাখে, যেখানে সুইজারল্যান্ডের দখলে ছিল ৪১ শতাংশ।
আক্রমণেও ছিল আর্জেন্টিনার স্পষ্ট প্রাধান্য। তারা সুইস গোলমুখে মোট ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড ১৩টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
পাস খেলাতেও এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তারা ৬১৬টি পাস দিয়ে ৮৮ শতাংশ সফলতা পায়। বিপরীতে সুইজারল্যান্ড ৪৫৩টি পাস খেলেছে, যার সফলতার হার ছিল ৮৪ শতাংশ।
শারীরিক লড়াই ছিল বেশ জমজমাট। ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৪টি এবং সুইজারল্যান্ড ১৮টি ফাউল করে। হলুদ কার্ডের হিসাবে আর্জেন্টিনা দেখে ৩টি, আর সুইজারল্যান্ড ১টি। তবে বড় ধাক্কা আসে ৭২ মিনিটে, যখন ব্রিল এমবোলো সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার চাপ সামাল দিতে পারেনি।
কর্নার আদায়েও এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তারা পায় ৮টি কর্নার, যেখানে সুইজারল্যান্ডের ঝুলিতে ছিল ২টি। অফসাইডের হিসাবে অবশ্য খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। আর্জেন্টিনা ৪ বার এবং সুইজারল্যান্ড ৩ বার অফসাইডে ধরা পড়ে।
সব মিলিয়ে বলের দখল, আক্রমণের সংখ্যা, পাসের পরিমাণ ও সফলতা, কর্নার আদায়—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানেই এগিয়ে থেকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।