বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার জয়ের ম্যাচে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আর এরপর তার করা উদযাপনটি টুর্নামেন্টের অন্যতম হাসির খোরাক ও স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়। লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার এমন এক টিকটক নাচ জুড়ে দেন, যা পুরো স্টেডিয়ামকে উন্মাতাল করে তোলে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এর পেছনের গল্পটি যেমন সাধারণ, তেমনই মজার।
উদযাপনটি সবাইকে চমকে দিলেও, ম্যাক অ্যালিস্টার এবং নিকোলাস গনজালেসের জন্য এটি ছিল আগে থেকেই ঠিক করে রাখা একটি পরিকল্পনা। এই মিডফিল্ডার নিজেই পুরো বিষয়টি বেশ বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, ‘এই ছোট্ট নাচটি মূলত একটা টিকটক ভিডিও ছিল, যা আমি আর নিকো গনজালেস দেখেছিলাম। আমার স্ত্রী প্রথমে আমাকে এটি পাঠিয়েছিল, তারপর আমি আর নিকো সেটা দেখে সিদ্ধান্ত নিই, আমাদের এটা করতেই হবে। ব্যস, চুক্তি পাকা হয়ে গেল। তাদের মধ্যে যে-ই গোল করবে, তাকেই এই কোরিওগ্রাফিটি করতে হবে।’
অ্যালিস্টার প্রথম গোলটি পান এবং তিনি এক সেকেন্ডের জন্যও দ্বিধা করেননি। যদিও তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে নাচটি নিখুঁত হয়নি, ‘আমি জানি না, নাচটা আমি সেরা উপায়ে করতে পেরেছি কি না, তবে যাই হোক, কাজ হয়ে গেছে।’ তার এই সততা মুহূর্তটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আর এই নাচ শুধু গোল উদযাপনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচ শেষে গ্যালারির দর্শকদের সামনে চূড়ান্ত উদযাপনের সময়েও ম্যাক অ্যালিস্টার আবারও সেই নাচটি দেন। এর কারণ হিসেবে তিনি প্রথমটির মতোই সহজ এক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন,'কারণ নিকোলাস আমাকে এটা করার জন্য বারবার উসকানি দিচ্ছিল, আর তাই আমিও আর ধরে রাখতে পারিনি।' শুরু থেকেই এই পরিকল্পনার সহযোগী হিসেবে থাকা গনজালেস তাকে কোনোভাবেই পিছু হটতে দেননি।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক। ম্যাক অ্যালিস্টারের এই নাচটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি শেয়ার হওয়া মুহূর্তগুলোর একটিতে পরিণত হয়।