ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রভাব: ফাইনাল থেকেও ছিটকে গেলেন দুই ইংলিশ রেফারি

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। মাঠে দুই দলের লড়াই যতটা উত্তেজনাপূর্ণ, তার প্রভাব রয়েছে রেফারিংয়েও। ফিফার নিয়ম ও ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে টুর্নামেন্টে আর কোনো ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন না ইংল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ রেফারি মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলর। তার মানে দাঁড়াচ্ছে চলতি বিশ্বকপে শেষ ম্যাচ পরিচালনা করে ফেলেছেন তারা। 

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা দুই দলই সেমিফাইনালে ওঠায় ফিফা আর তাদের কোনো ম্যাচেই এই দুই ইংলিশ রেফারিকে দায়িত্ব দেবে না। ফলে বুধবারের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের পাশাপাশি রবিবারের ফাইনালেও তাদের দেখা যাবে না।

মূলত ফিফার নিয়মেই এমনটা হচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুযায়ী কোনো রেফারি নিজের দেশের ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন না, যাতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে। সেই নিয়মেই ইংল্যান্ডের ম্যাচে অলিভার ও টেলরের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ নেই।

তবে বিষয়টি শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রভাবও রেফারি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ফলে আর্জেন্টিনার ম্যাচেও ইংলিশ রেফারিদের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। এ কারণে ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে অলিভার বা টেলরের ফাইনাল পরিচালনার সম্ভাবনা থাকছে না।

সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, রাজনৈতিক বিষয়গুলো ফিফা প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিবেচনা করে। ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিসরকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ‘মুচাচোস’ গান গাইতে দেখা যায়। ওই গানের কথাতেও ব্রিটিশ শাসিত ফকল্যান্ড দ্বীপের উল্লেখ রয়েছে।

১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলা ফকল্যান্ড যুদ্ধে মোট ৯০৭ জন প্রাণ হারান।

এখানে উল্লেখ্য, নিয়মটা মোটেও নতুন নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও একই কারণে আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাননি অ্যান্থনি টেলর।

ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, সেবার ফাইনালে যদি ফ্রান্সের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়াও উঠতো তাহলে টেলরই ম্যাচটি পরিচালনার অন্যতম দাবিদার হতেন।

একইভাবে ইংল্যান্ডও সেমিফাইনালে ওঠায় আর্জেন্টিনার রেফারি ফাকুন্দো তেল্লোও ফাইনাল পরিচালনার সুযোগ হারিয়েছেন। এছাড়া অলিভার, টেলর ও তেল্লো- তিনজনের কেউই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন না।

এদিকে, স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনাল পরিচালনা করবেন ইভান বার্টন।