‘আমি আগুনে ঘি ঢালতে আসিনি, খেলোয়াড়রা জানে এটা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল’

২০২২ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে। তবে এবার সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। দুই দলের এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। সেই চাপ অনুভব করলেও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি ম্যাচটিকে ‘কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ’ হিসেবেই দেখছেন।

নকআউট পর্বে কঠিন সব বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় সংবাদ সম্মেলনে স্ক্যালোনি কয়েকবারই খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে দলকে যতটা খারাপ বলা হচ্ছে, আমরা ততটা খারাপ নই। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে অবশ্যই অনেক ভালো কাজ করতে হয়েছে। এই ছেলেদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ওরাই আমাদের আবারও বিশ্বের সেরা চারের মধ্যে নিয়ে এসেছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমরা এত ভালো কাজ করেছি যে কখনও কখনও মনে হয় সেটাও যথেষ্ট নয়। কিন্তু এ পর্যন্ত যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত।’

সেমিফাইনালে ওঠার পথে তিন নকআউট ম্যাচেই লড়াই করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। আগের বছরগুলোর মতো চেনা ছন্দও দেখা যায়নি। তবে প্রতিকূলতা জয় করাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন স্ক্যালোনি।

তার ভাষায়, ‘কষ্ট না করে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে পৌঁছানো খুবই কঠিন। এর জন্য প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকতে হয়। আগের বিশ্বকাপেও আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম, তারপরও কষ্ট করতে হয়েছে। আমরা এমন পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত। তবে বিশ্বকাপে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রতিকূলতা জয় করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

দলের আরও উন্নতির সুযোগ আছে বলেও মনে করেন আর্জেন্টিনা কোচ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রচুর ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আমাদের সেই ফুটবলে ফিরতে হবে, যেটা সবসময় আমাদের শক্তি ছিল। যারা এতদিন আমাদের সুন্দর ফুটবল খেলতে সাহায্য করেছে, আগামীকাল তাদেরই দেখতে চাই। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আমি নিশ্চিত।’

আর্জেন্টিনার মতো ইংল্যান্ডও কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। থমাস টুখেলের দল পুরো বিশ্বকাপজুড়েই উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহামকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেন স্ক্যালোনি।

তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচটি আগের ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন হবে। যেসব জায়গায় আমরা ভালো করতে পারিনি, সেগুলো উন্নত করার চেষ্টা করব। আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, বিশ্লেষণ করেছি। আমরা ভালো অবস্থানে আছি এবং একটি দুর্দান্ত দলের মুখোমুখি হচ্ছি। আশা করি, আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেলিংহাম ও কেন এমন দুই খেলোয়াড়, যাদের যে কোনো কোচই দলে পেতে চাইবেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা আমাদের নিজস্ব শক্তি দিয়ে তাদের নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করব।’

ফকল্যান্ড যুদ্ধ আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে এখনও বেদনাদায়ক স্মৃতি। তবে স্ক্যালোনি মনে করেন, সেই ইতিহাসের সঙ্গে ফুটবলকে মেলানো উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। ৪০ বছর আগে যা ঘটেছিল, তা নিয়ে এখন আমরা কী করতে পারি? এর কোনো মানে হয় না। সেটি আমাদের ইতিহাসের অংশ, নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। কিন্তু আমি এখানে দাঁড়িয়ে বলতে পারি না যে এটি একটি খেলার চেয়ে বেশি কিছু। অনেক মানুষ সেই ঘটনায় অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছেন। তাই আমি এখানে এসে আগুনে ঘি ঢালতে আসিনি। খেলোয়াড়রা জানে, এটা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়।’

শেষে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টাইন হিসেবে সেই স্মৃতি আমাদের থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে বিষয়গুলো গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। সেটি সবার জন্য অত্যন্ত দুঃখের একটি সময় ছিল এবং আমরা তা স্মরণ করি। কিন্তু আমরা যদি এটিকে কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে না দেখি, তাহলে ভুল করব।’