একসময় গতিতে প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করতেন। এখন আর আগের মতো দৌড়ান না। কিন্তু তাতেই যেন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণভোমরা তিনি। পরিসংখ্যান বলছে, মাঠে প্রায় অর্ধেক সময় হেঁটেই কাটাচ্ছেন মেসি, অথচ গোল, অ্যাসিস্ট আর সুযোগ তৈরিতে এখনও সবার ওপরে।
আর্জেন্টিনা যদি ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়তে পারে, তবে সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসিই।
৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা খেলছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। যা পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এবারের আসরে মেসি ইতোমধ্যে করেছেন ৮ গোল, সঙ্গে ৩টি অ্যাসিস্ট।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি যৌথভাবে শীর্ষে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে। তবে এই মেসি আগের সেই গতিময় মেসি নন, যিনি ২০০৩ সালে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক করেছিলেন।
সময়ের সঙ্গে অধিকাংশ ফুটবলারের পারফরম্যান্স কমে যায়। কেউ কেউ নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তোলেন। যেমন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গতির ধার কমে যাওয়ার পর বক্সের ভেতরের গোলশিকারিতে রূপান্তরিত হয়েছেন।
মেসির পরিবর্তনটা ভিন্ন। তিনি নিজের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং খেলার ওপর আধিপত্য ধরে রাখতেই নিজেকে নতুনভাবে গড়েছেন।
চলতি বিশ্বকাপে তিনি আগের চেয়ে কম দৌড়াচ্ছেন, কিন্তু সুযোগ তৈরি করছেন অনেক বেশি। এখন পর্যন্ত ৩৩টি শট নিয়েছেন এবং সতীর্থদের জন্য ২১টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। অর্থাৎ গোলের প্রচেষ্টা ও সুযোগ সৃষ্টি মিলিয়ে সংখ্যাটা ৫৪। যা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে মেসি যে দূরত্ব অতিক্রম করেছেন, তার ৪৭ শতাংশই হেঁটে হেঁটে। টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলা সব আউটফিল্ড ফুটবলারের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ।
প্রতি ৯০ মিনিটে তিনি গড়ে ৮.২ কিলোমিটার দৌড়েছেন, যা আর্জেন্টিনার অন্তত ২০ মিনিট খেলা সব আউটফিল্ড ফুটবলারের মধ্যে সবচেয়ে কম।
স্প্রিন্টের সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এবারের বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে তার গড় স্প্রিন্ট ২.৭টি। যেখানে চার বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৫.৩টি।
কম দৌড়ালেও মেসির প্রভাব কমেনি। বরং গত ১৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতেই তাকে গোল বা অ্যাসিস্ট থেকে বিরত রাখতে পেরেছে প্রতিপক্ষ। সেই দলটি ছিল পোল্যান্ড। এই ১৫ ম্যাচে মেসির অবদান ১৬ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে হোসে মরিনহোর পোর্তোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে অভিষেকের পর থেকে একাধিকবার নিজের খেলার ধরন বদলেছেন মেসি। ডান প্রান্তের দ্রুতগতির উইঙ্গার থেকে ফলস নাইন, প্লেমেকার-সবশেষে এখন তিনি এমন এক ফুটবলার, যিনি কম দৌড়েও পুরো ম্যাচের গতি ও ফল নির্ধারণ করে দিচ্ছেন।
এ কারণেই ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসার নাম এখনও লিওনেল মেসি।








