বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ দুই দলেরই। এখন শিরোপা নয়, সান্ত্বনার পুরস্কার হিসেবে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। শনিবার রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল।
দুই দলই সেমিফাইনালের হারের ক্ষত নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামবে। অনেকের মতে, কৌশলগত ভুলের কারণেই ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে বিদায় নিতে হয়েছে।
সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেললেও স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল ফ্রান্স। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের কৌশলের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ২-০ গোলে হেরে যায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ হতাশার ইতিহাসে যোগ হয়েছে আরেকটি অধ্যায়। আটলান্টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন চূর্ণ হয়েছে থমাস টুখেলের শিষ্যদের।
এখন দুই দলকেই নতুন করে নিজেদের উজ্জীবিত করে এমন একটি ম্যাচ খেলতে হবে, যেটিকে ফুটবল অঙ্গনের অনেকেই সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি বলে মনে করেন।
সেমিফাইনালের পর ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল বলেছেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়, এমনকি ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরাও এই ম্যাচ খেলতে চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সবাই বিশ্বকাপ জিততেই খেলে, কিন্তু বাস্তবতা এটাই।’
এই ম্যাচটি ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্যও বিশেষ। বিশ্বকাপ শেষে দায়িত্ব ছাড়ছেন ৫৭ বছর বয়সী এই কোচ। ফলে এটি হতে যাচ্ছে ফরাসি জাতীয় দলের দায়িত্বে তার শেষ ম্যাচ।
২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৪ বছরে ফ্রান্সকে ২০১৮ বিশ্বকাপ শিরোপা, ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং এবার সেমিফাইনালে তুলেছিলেন দেশম। যদিও স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার কৌশল নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। সেমিফাইনালে হারের পর তিনি বলেছিলেন, ‘এখন আমাদের সামনে তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ আছে। সেটি অর্জনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’