বিশ্বকাপ বরাবরই ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াইয়ের জায়গা। এবারের ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম নয়। একদিকে বলের নিয়ন্ত্রণ আর ধৈর্যের প্রতীক স্পেন। অন্যদিকে গতি, তীব্রতা ও শেষ মুহূর্তের আক্রমণে প্রতিপক্ষকে লন্ডভন্ড করে দেওয়া আর্জেন্টিনা। তবে দুই ভিন্ন দর্শনের এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে মূলত মাঝমাঠের লড়াইয়ে।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে স্পেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে ও উসমান দেম্বেলের মতো তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল লা রোহারা।
সেই ম্যাচে মাঝমাঠে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান ফাবিয়ান রুইস ও বিশেষ করে মিডফিল্ড জেনারেল রদ্রি। তাদের আধিপত্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে সক্ষম হয় স্পেন।
ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম কৌশলগতভাবে মাঝমাঠে স্পেনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। একই সঙ্গে দানি ওলমোর এক স্পর্শে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষমতা এবং লামিনে ইয়ামালের গতি ও সরাসরি আক্রমণও ঠেকাতে ব্যর্থ হয় ফরাসিরা।
তবে আর্জেন্টিনা একই ভুল করবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মাঝমাঠে খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়িয়ে দ্রুত মেসির সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলাই আর্জেন্টিনার অন্যতম শক্তি। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের খেলার ছন্দ নষ্ট করতে ছোট ছোট ফাউল করাও তাদের কৌশলের অংশ।
এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, স্পেন কি নিজেদের ধৈর্য ধরে রেখে আর্জেন্টিনার এই পরিকল্পনা মোকাবিলা করতে পারবে? এই ম্যাচের আসল পরীক্ষা সেখানেই। শুধু ৬০ বা ৭০ মিনিট নয়। পুরো ৯০ মিনিট একই মনোযোগ ধরে রাখতে হবে স্প্যানিশদের। কারণ এবারের বিশ্বকাপে শেষ সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড; সব দলই শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার তীব্র আক্রমণের শিকার হয়েছে।
সময় ফুরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মেসিদের আক্রমণ আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তাই এই ফাইনালও শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত থাকবে জমজমাট! আর সে কারণেই মাঝমাঠের লড়াই হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।









