ইয়ামালের সেই ছবি নিয়ে ফাইনালের আগে যা বললেন মেসি 

২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ ঘিরে মার্কিন মুলুকে এখন উন্মাদনার পারদ তুঙ্গে। বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবারের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই মহাযুদ্ধের আগে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জ্যাভিটস সেন্টারে বসেছিল বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন ও বিনোদন জগতের এক অভূতপূর্ব ‘চাঁদের হাট’। ‘ফ্যানাটিক্স ফেস্ট’-এর মঞ্চে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের অফিশিয়াল প্রেস কনফারেন্সে হাজির হয়েছিলেন দুই দলের কোচ ও অধিনায়ক।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের বাঘা বাঘা সব কিংবদন্তিরা। ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবল অধিনায়ক রিও ফার্ডিনান্ড, টেনিস সম্রাট নোভাক জোকোভিচ, বাস্কেটবলের সুপারস্টার কেভিন ডুরান্ট, এনএফএল ও মেজর সকার লিগের টম ব্র্যাডি এবং হলিউডের জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও অভিনেতা কেভিন হার্ট উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটির রোমাঞ্চ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। 

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সোনালী সময় কেটেছে স্পেনের বার্সেলোনায়। অন্যদিকে স্পেনের বর্তমান সেনসেশন লামিনে ইয়ামালও বেড়ে উঠেছেন সেই বার্সার একাডেমি লা মাসিয়াতেই। সম্প্রতি ইয়ামাল যখন ৫ মাসের শিশু, তখন ইউনিসেফের এক ফটোশুটে তরুণ মেসির কোলে তার গোসল করার একটি পুরোনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এবং ফুটবলবিশ্বে রীতিমতো ঝড় তোলে। 

অনুষ্ঠানে এনএফএল কিংবদন্তি টম ব্র্যাডি সরাসরি মেসিকে ইংরেজিতে সেই ভাইরাল ছবিটির অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। মেসি ইংরেজি প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে না পারায় দোভাষীর সাহায্য নেন। দোভাষী স্প্যানিশে রূপান্তর করার পর মেসি মুখে চওড়া হাসি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। স্প্যানিশ থেকে বাংলায় অনূদিত মেসির সেই উত্তরের ভাবার্থ ছিল অত্যন্ত আবেগের, “আসলেই বিষয়টি পুরো ‘ক্রেজি’ (পাগলাটে)। ও (ইয়ামাল) এক অসাধারণ খেলোয়াড়। এত কম বয়সেই সে অলরেডি স্পেনের হয়ে ইউরো জিতেছে। বর্তমানে ও দারুণ খেলছে এবং ওর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। কিন্তু ফাইনালে আমরা যেকোনও মূল্যে তাকে থামাতে চাই।”  

বার্সেলোনার সঙ্গে গভীর আত্মিক টানের কারণেই হয়তো ১৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ উইঙ্গারের প্রতি মেসির কথায় আলাদা স্নেহ ও দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছিল। মেসি বলেন, “ইয়ামাল এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। আমি সবসময়ই তার মঙ্গল কামনা করি। ওর বয়স মাত্র ১৯ বছর, পুরো ভবিষ্যৎ ওর সামনে পড়ে রয়েছে।”

সেই পুরোনো ছবির অবিশ্বাস্য সংযোগ নিয়ে এলএমটেন আরও যোগ করেন, “সেই ছবিটা, সত্যি বলতে একদম অবিশ্বাস্য ছিল। ও তখন একটা ছোট দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল, আর আজ আমরা বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি! কী অদ্ভুত এক নিয়তি! আমি শুধু ওর সৌভাগ্য কামনা করি।” 

ইয়ামাল ঝড় ও ছবির প্রসঙ্গের আগে ফাইনালের মতো বড় ম্যাচের মানসিক চাপ সামলানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি তার চিরচেনা শান্ত ও পেশাদার ভঙ্গিতে স্প্যানিশ ভাষায় উত্তর দেন। যার অর্থ দাঁড়ায়, “আমরা মাঠে নেমে আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করি। ফুটবল খেলায় হার-জিত থাকবেই, ওটা খেলারই অংশ। আমাদের ফোকাস শুধু নিজেদের সেরাটা দেওয়ার দিকে।”

নজিরবিহীন এই ফুটবল উৎসবের শেষটা ছিল আরও রঙিন। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দী করার জন্য মঞ্চের সবাইকে নিয়ে একটি সেলফি তোলার আহ্বান জানান। মেসি, স্ক্যালোনি, ব্র্যাডি, জোকোভিচ, ডুরান্ট ও কেভিন হার্ট— সবাই মিলে সামনে সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফি এবং পেছনে হাজার হাজার উল্লসিত সমর্থকদের রেখে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী হন।