ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গোলস্কোরিং রেকর্ডটা ১৯ জুলাই ২০২৬-এ বদলে গেলো মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে যে গোলটি করলেন, সেটি হলো বিশ্বকাপের সর্বকালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের নতুন মাইলফলক। মেসির ২১ গোলের রেকর্ড টপকে বিশ্বকাপ গোলের নতুন রেকর্ড এখন এমবাপ্পের— ২২।
যেভাবে এলো রেকর্ডের এই মুহূর্ত
তৃতীয় স্থানের ম্যাচ শুরুর আগে হিসাবটা ছিল সহজ। এমবাপ্পের ক্যারিয়ার বিশ্বকাপ গোল ছিল ২০, মেসির ২১ থেকে মাত্র এক পেছনে। এই ম্যাচে দুটো গোল করতে পারলেই মেসির রেকর্ড টপকে যাবেন।
প্রথম গোলে রেকর্ড সমান হলো। তারপর ৬৬ মিনিটে ওলিসের চমৎকার পাস পেলেন এমবাপ্পে এবং একটি নিখুঁত ফিনিশে বল জালে পাঠিয়ে দিলেন। সেই মুহূর্তে স্কোরকার্ডে সংখ্যাটা বদলে গেলো: ২১ থেকে ২২।
ফাইনালে না খেলেও স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হেরে ফ্রান্সের বিদায় হয়েছিল। এমবাপ্পে এই তৃতীয় স্থানের ম্যাচকে রূপান্তরিত করলেন ইতিহাসের মঞ্চে।
মেসির রেকর্ড, কতটা কঠিন ছিল টপকানো?
লিওনেল মেসি ছয়টি বিশ্বকাপে ২১ গোল করেছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ২০ বছরের দীর্ঘ যাত্রায়। এমবাপ্পে সেই সংখ্যা টপকালেন মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপে, ২৭ বছর বয়সে। আরও অন্তত একটি বিশ্বকাপ সামনে আছে তার। ২০৩০ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে থাকবেন।
তুলনাটা আরও স্পষ্ট হয়— মেসি ৬ বিশ্বকাপে ২১ গোল, এমবাপ্পে ৩ বিশ্বকাপে ২২ গোল।
একটি বিশ্বকাপে এত রেকর্ড
এই ২০২৬ বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ঝুলিতে জমেছে রেকর্ডের পর রেকর্ড। এই আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট রেসে শীর্ষে থাকলেন তিনি। মেসির ৮ গোলকে পেছনে ফেলে। ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও তিনিই— ৬৪ গোল নিয়ে থিয়েরি অঁরি ও ওলিভিয়ে জিরুকে অনেক পেছনে ফেলেছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও তার— ১০টি।
এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অবদানের (৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) রেকর্ডও ভেঙেছেন— ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের পর (১০ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) এই কীর্তি আর কেউ করেননি।
ফাইনালে তিনি নেই। স্পেনের সামনে সেমিফাইনালে থেমে গেছে ফ্রান্সের অভিযান। কিন্তু এমবাপ্পে এই বিশ্বকাপ থেকে ফিরছেন এমন একটি সংখ্যা নিয়ে যা আগামী দশক হয়তো কেউ স্পর্শ করতে পারবে না।
পেলে, রোনালদো, ম্যারাডোনা, মেসি— বিশ্বকাপের এই কিংবদন্তিদের পাশে এখন একটি নতুন নাম, একটি নতুন সংখ্যা নিয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ২২।