বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুই দলই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আর অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতায় শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে পৌঁছেছে। তবে দলগত লড়াইয়ের পাশাপাশি কয়েকটি ব্যক্তিগত দ্বৈরথও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি লড়াই তুলে ধরা হলো।
লিওনেল মেসি বনাম আইমেরিক লাপোর্তে
বয়স ৩৯ বছর হলেও লিওনেল মেসির জাদু এখনও অনন্য। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করেছেন। শুধু গোল নয়, ৪টি অ্যাসিস্টও করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর মধ্যে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাত মিনিটের ব্যবধানে দুটি অ্যাসিস্ট করে দলকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের জয় এনে দেন।
স্পেন যদি মেসির প্রভাব কমিয়ে আনতে পারে, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পথ অনেকটাই সহজ হবে। সেই কঠিন দায়িত্বের অন্যতম অংশীদার হবেন সেন্টারব্যাক আইমেরিক লাপোর্তে।
অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের এই ডিফেন্ডার ১৯ বছর বয়সী পাও কুবারসির সঙ্গে গড়ে তুলেছেন দুর্ভেদ্য রক্ষণজুটি। পুরো টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন। আর সেই সাফল্যের পেছনে লাপোর্তের নেতৃত্ব ও রক্ষণভাগ নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
রদ্রি বনাম এনজো ফার্নান্দেজ
মাঝমাঠে দেখা যাবে দুই দলের দুই অন্যতম ভরসার লড়াই। স্পেন অধিনায়ক রদ্রি চলতি বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছেন।
পুরো আসরে সর্বোচ্চ ৬৪৮টি সফল পাস দিয়েছেন তিনি, যার সফলতার হার ৯৩ শতাংশ। এছাড়া ৮৩ হাজার ৮০২ মিটার দৌড়ে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার রেকর্ডও তার। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অন্যতম সেরা।
তবে রদ্রির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবেন এনজো ফার্নান্দেজ। ২০২২ বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় এবারও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। বল ছাড়া অবস্থায় তার পরিশ্রম চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৪৩ বার বল কেড়ে নিয়ে আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড়ও তিনি।
নকআউট পর্বেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এনজো। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে হেডে গোল করে দলকে জয় এনে দেন। আর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৫ মিনিটে দারুণ এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরান।
লামিনে ইয়ামাল বনাম নিকোলাস তাগলিয়াফিকো
বর্তমান ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ প্রতিভাদের একজন লামিনে ইয়ামাল। হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফিরলেও ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পেয়েছেন।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার গতিময় দৌড় থেকেই পেনাল্টি পায় স্পেন। পুরো ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার। সৃজনশীলতার দিক থেকেও টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তিনি।
ইয়ামালকে থামানোর দায়িত্ব থাকবে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ লেফটব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর কাঁধে।
লিওঁর এই ডিফেন্ডার ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। একের বিপরীতে এক ডিফেন্ডিং, কৌশলগত সচেতনতা এবং অভিজ্ঞতার কারণে এখনও আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ ভরসা তিনি। ৩৩ বছর বয়সী তাগলিয়াফিকো জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৮২টি ম্যাচ। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও পুরো ১২০ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা এবং চাপ সামলানোর সক্ষমতা ইয়ামালকে মোকাবিলায় তাগলিয়াফিকোর বড় শক্তি হতে পারে। আর এই দ্বৈরথের ফলই ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।






