লিওনেল মেসি মাঠে ছিলেন না, তবু দারুণ ছন্দে ইন্টার মায়ামি। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে নিয়ে লুইস সুয়ারেজ জোড়া গোল করেছেন। ম্যাচের শেষ দিকে তরুণ প্রেস্টন প্ল্যামবেকের গোলে নাটকীয় ৩-২ ব্যবধানে শিকাগো ফায়ারকে হারিয়েছে মায়ামি। তাতে এমএলএসে রবের্ত লেভানদোভস্কির বহুল প্রতীক্ষিত অভিষেক ম্যাচটি হতাশায় শেষ হয়েছে।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের চার দিন পর মেসি ও সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল এই ম্যাচে ছিলেন না। ফলে মায়ামিকে নেতৃত্ব দেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে এএফএ সভাপতির ‘আটকের’ খবর, যে ব্যাখ্যা দিলো আর্জেন্টিনা
অন্যদিকে, স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা ছেড়ে শিকাগো ফায়ারে যোগ দেওয়ার পর এমএলএসে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ৩৭ বছর বয়সী পোলিশ তারকা রবার্ট লেওয়ানডোভস্কি।
ম্যাচ শেষে লেভানদোভস্কি বলেন, ‘নতুন দলের সঙ্গে মাত্র দুই দিন কাটানোর পর প্রথম ম্যাচেই সবকিছু নিখুঁতভাবে হবে, এমনটা আশা করিনি। আমারও একটু সময় দরকার। আমি নিশ্চিত, পরের ম্যাচে আজকের মতো রক্ষণে এত ভুল করবো না।’
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৭০০টিরও বেশি গোল করা এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখের হয়েও দারুণ সাফল্য পেয়েছেন।
তবে ম্যাচের নায়ক হয়ে যান ২০ বছর বয়সী প্রেস্টন প্ল্যামবেক। ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা এই তরুণ বদলি হিসেবে নেমে ৮৭ মিনিটে জয়সূচক গোল করে দলকে তিন পয়েন্ট এনে দেন।
১৪ মিনিটে লেভানদোভস্কির একটি শট প্রতিহত হয়। চার মিনিট পরই শিকাগো ফায়ার এগিয়ে যায় প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে।
মায়ামির গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো, যিনি কানাডার বিশ্বকাপ গোলকিপার ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারের পরিবর্তে একাদশে ছিলেন। ইয়ান ফ্রের সহজ একটি ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে মিস করেন। বল গড়িয়ে জালে ঢুকে গেলে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে এগিয়ে যায় শিকাগো।
২৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান সুয়ারেজ। এরপর ৫১ মিনিটে জার্মান বেরতেরামের অসাধারণ ব্যাকহিল পাস থেকে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন উরুগুয়ে তারকা।
৬৭ েমিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার পুসো দিতেহজানে গোল করে শিকাগোকে ২-২ সমতায় ফেরান।
তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন প্ল্যামবেক। ৮৭ মিনিটে সুয়ারেজের কাছ থেকে নেওয়া শট গোলরক্ষক ক্রিস ব্র্যাডি ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে ভলি করে ইন্টার মায়ামির হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন এই তরুণ। আর সেটিই হয়ে ওঠে জয়সূচক গোল।
এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে।