স্পেনের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলটির দুটি ম্যাচে অস্বাভাবিক বেটিং কার্যক্রম ও কিছু বিতর্কিত ঘটনার কারণে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ম্যাচ পাতানোর কোনো প্রমাণ মেলেনি, তবু বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
দ্য অ্যাথলেটিক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রুপ অব কোপেনহেগেন, যা ক্রীড়া ইভেন্টে কারসাজি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করে। তারা বিশ্বকাপে মোট সাতটি ঘটনাকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি এসব ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মেসি কি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন?
স্পেনকে ঘিরে চিহ্নিত হওয়া দুটি ঘটনার একটি হলো পলিমার্কেট প্ল্যাটফর্মে কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেন জয় পাবে না-এমন ফলাফলের পক্ষে অস্বাভাবিক হারে বাজি ধরা। অন্যটি হলো সৌদি আরবের বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচে ফেরান তোরেসের গোল বাতিল করতে ভিএআরের অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় নেওয়ার ঘটনা।
এই ঘটনাগুলোকে ইয়েলো অ্যালার্ট হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সাধারণত অস্বাভাবিক বেটিং প্রবণতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন বা সন্দেহজনক তথ্য লেনদেনের মতো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে এই সতর্কতা জারি করা হয়।
গ্রুপ অব কোপেনহেগেনের সাবেক সহযোগী ও বেটিং বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান কালব জানিয়েছেন, কোনো অ্যালার্ট জারি হওয়া মানেই ম্যাচে কারসাজি হয়েছে—এমন নয়।
তার ভাষায়, ‘গ্রুপ অব কোপেনহেগেনের অ্যালার্ট অনেক সময় অস্বাভাবিক বেটিং আচরণ, কিস্তিতে পরিবর্তন বা তারল্য সুরক্ষার মতো কারণেও ব্যাখ্যা করা যায়। সব ক্ষেত্রে কারসাজির বিষয়টি জড়িত থাকে না।’
অন্যদিকে, ফিফা জানিয়েছে তারা কোনো ম্যাচেই সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম বা ম্যাচ পাতানোর ইঙ্গিত পায়নি। তবে গ্রুপ অব কোপেনহেগেন বিশ্বকাপজুড়ে মোট সাতটি ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে। স্পেনের দুটি ঘটনার পাশাপাশি আরও যেসব ঘটনায় সতর্কতা জারি হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানের মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড, ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে একটি অস্বাভাবিক বাজি, যেখানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার দিনই বেলজিয়ামের হয়ে তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে বাজি ধরা হয়েছিল, এমনকি তার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই।
বর্তমানে এসব ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্পেন বা অন্য কোনো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।