জার্মান দলের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই কোনো রাখঢাক না রেখে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরিবারের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা হলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না, সঙ্গে সঙ্গেই জার্মানির কোচের পদ ছেড়ে দেবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এই দায়িত্বকে ভালোবাসলেও প্রয়োজন হলে সরে দাঁড়াতে তিনি কখনোই দ্বিধা করবেন না।
৫৯ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ চার বছরের চুক্তিতে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শন ও স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত ক্লপের কাঁধে এখন চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে নতুন করে গড়ে তোলার দায়িত্ব। টানা হতাশাজনক বিশ্বকাপ অভিযানের পর দলকে আবারও সাফল্যের পথে ফেরানোর লক্ষ্যেই তাকে নিয়োগ দিয়েছে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন।
লিভারপুল ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক এই কোচ হুলিয়ান নাগেলসমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর পদত্যাগ করেন নাগেলসমান। এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ায় বিশ্বকাপে জার্মানির হতাশা আরও দীর্ঘ হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন ক্লপ, ‘আপনারা যদি সীমা লঙ্ঘন করেন এবং আমার পরিবারকে শান্তিতে থাকতে না দেন, তাহলে আমি এখান থেকে চলে যাবো।’
ক্লপ আরও বলেন, ‘আমি এই কাজটা নিজের জন্য করছি না, আপনাদের জন্য করছি। হুলিয়ান নাগেলসমান ও টমাস টুখেলের সঙ্গে আপনারা কীভাবে আচরণ করেছেন, সেটা আমি দেখেছি। তারপরও আমি এই দায়িত্ব নিয়েছি।’
এরপরই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজটা খুব ভালোবাসি। কিন্তু প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় দায়িত্ব ছাড়তে আমি প্রস্তুত।’
২০২৪ সালে লিভারপুল ছাড়ার পর রেড বুলের গ্লোবাল হেড অব সকার হিসেবে কাজ করছিলেন ক্লপ। জার্মান জাতীয় দলে তার সহকারী হিসেবে থাকছেন দীর্ঘদিনের সহযোগী পিটার ক্রাভিয়েটজ, সাবেক লিভারপুল সহকারী কোচ পেপ লিন্ডার্স এবং জার্মানির সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার সভেন বেন্ডার।