বিশ্বকাপে মেসিকে আটকাতে গিয়ে বুকেই ঘুষি মারেন, তারপর...

লিওনেল মেসিকে আটকানোর চেষ্টা থাকে সব ডিফেন্ডারের। কেউ সফল হন আবার কেউ ব্যর্থ। কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার এদের আলভারেস বালান্তাওযেভাবে রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকাকে কীভাবে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন- তার বর্ণনা দিয়েছেন।

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি  লিওনেল মেসি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়েছেন অসংখ্যবার। এসব ডিফেন্ডাররা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাকে আটকানোর কিংবা অন্তত খেলায় তার প্রভাব সীমিত রাখার চেষ্টা করেছেন। রিভার প্লেটের সাবেক খেলোয়াড় এদের আলভারেস বালান্তাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বে আর্জেন্টাইন তারকার মুখোমুখি হয়ে তাকে কীভাবে মার্ক করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই গল্প শুনিয়েছেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে স্মরণ করেছেন এভাবে, ‘‘একবার আমরা আর্জেন্টিনায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলছিলাম। আমি লেফট-ব্যাক হিসেবে খেলছিলাম এবং মেসিকে মার্ক করার দায়িত্বে ছিলাম। পেকারম্যান (যিনি তখন কলম্বিয়া জাতীয় দলের কোচ ছিলেন) আমাকে বলেছিলেন, ‘মেসির পেছনে লেগে থাকো, ও মনোযোগ হারিয়ে ফেলবে।’ তাই, প্রথম টাচেই সে যখন টাচলাইনের কাছে বল পেলো, আমি খুব শক্তভাবে ট্যাকল করতে যাই এবং তার বুকে ঘুষি মেরে বসি। সে পড়ে গেলো, কিন্তু কিছুই বললো না। তবে সে পুরো রূপ বদলে ফেললো।”

তবে নিজের লক্ষ্য পূরণ করা তো দূরের কথা, তিনি কেবল আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিধারীকে আরও বেশি অনুপ্রাণিতই করেছিলেন। এর পরের বলেই মেসি তাকে খুব সহজেই পেছনে ফেলে যান। রিভার প্লেটে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত খেলা এই ফুটবলার হেসেই বলেছেন, ‘পরের বার বলটি লাইনের কাছে ছিল এবং আমি ভেতরের দিকে কাট করি, কিন্তু সে বাইরের দিকে ঘুরে যায়। আর আমি যখন ঘুরে দাঁড়ালাম, ততক্ষণে সে ওসপিনারকপ (কলম্বিয়ার গোলরক্ষক) একা পেয়ে গেছে। সে যেন মাঠের সর্বত্রই উপস্থিত ছিল!।’

সান হুয়ানের এস্তাদিও দেল বিসেনতেনারিও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় পায়। খেলায় মেসি (ফ্রি-কিক থেকে), লুকাস প্রাতো এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া গোল করেন। এই জয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত ২৪ হাজার ভক্তকে আনন্দিত করার পাশাপাশি আলবিসেলেস্তাদের টানা চার ম্যাচ পর জয়ের পথে ফিরিয়ে আনে এবং পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে তোলে।

ম্যাচটি চলার সময় বালান্তা সুইজারল্যান্ডের ক্লাব বাসেলের খেলোয়াড় ছিলেন, যেখানে তাকে প্রায় চার মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা হয়েছিল। রিভার প্লেটে থাকাকালীন তিনি ৮৩টি অফিশিয়াল ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। সেখানে নিজের মেয়াদে তিনি পাঁচটি শিরোপা জেতেন, যার মধ্যে চারটিই ছিল আন্তর্জাতিক শিরোপা (যার মধ্যে রয়েছে ২০১৫ সালের কোপা লিবের্তাদোরেস এবং ২০১৪ সালের কোপা সুদামেরিকানা)।