যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে থাকেন লিওনেল মেসি। খেলেন ইন্টার মায়ামিতে। সেই শহরে একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং লটে মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ এক ব্রাজিলিয়ান তরুণের। তিনি সেই মুহূর্তটিতে ক্যামেরায় ধারণ করেও রেখেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতেও সময় লাগেনি। রোবার্তো কাম্পো নামের সেই ব্রাজিলিয়ান ‘গ্লোবো স্পোর্ত’-কে শুনিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবন্তির সঙ্গে সাক্ষাতের রোমাঞ্চকর গল্প।
ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল শহরের বাসিন্দা রোবার্তো স্থানীয় একটি মার্কেট থেকে বের হয়ে গাড়ি নিয়ে মূল সড়কে যাচ্ছিলেন। সেই সময় পার্কিং লটে তার নজর আটকে যায় একজন মানুষের ওপর। প্রথম দেখাতেই তার নজরে আসে ওই ব্যক্তির হাঁটার ভঙ্গি। ঘটনাটি বর্ণনা করে রোবার্তো বলেন, ‘দূর থেকেই আমি এক ছোটখাটো একজন মানুষকে খেলোয়াড়সুলভ ছন্দে হাঁটতে দেখছিলাম। কাছে যাওয়ার পর নিশ্চিত হলাম যে এটা স্বয়ং মেসি!’
আর্জেন্টাইন জাদুকরের সঙ্গে ছিল দুটি শিশু। ভিডিওতে দেখা যায়, রোবার্তো হাত নাড়লে মেসিও হেসে পাল্টা হাত নেড়ে গাড়িতে ওঠেন। বিশেষ বিষয় হলো, সেখানে তখন কোনও ভিড় বা নিরাপত্তা রক্ষী ছিল না। রোবার্তোর ভাষায়, ‘মুহূর্তের মধ্যে কোনও কিছু না ভেবেই আমি মোবাইল বের করে রেকর্ড করতে শুরু করলাম। তখন আমার বুক কাঁপছিল এবং প্রচণ্ড আবেগ কাজ করছিল। এটি এমন এক চমক, যা আপনি কখনো কল্পনাও করতে পারবেন না!’
ভিডিও করার পর রোবার্তো সিদ্ধান্ত নেন একটু সাহস করে বিশ্বসেরা তারকার কাছে ছবি তোলার অনুরোধ জানাবেন। মেসির গাড়ির পেছনে নিজের গাড়ি পার্ক করে তিনি গিয়ে জানালার কাচে টোকা দেন। তখন গাড়ির প্যাসেঞ্জার সিটে বসা ছিলেন মেসি। রোবার্তো বলেন, ‘আমি স্প্যানিশ ভাষায় বললাম, “মেসি, আমি কি তোমার সঙ্গে একটা ছবি তুলতে পারি? প্লিজ...।” সে বলল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ।” আমি তাকে জানালাম যে, আমি একজন ব্রাজিলিয়ান। একইসঙ্গে তার বড় ভক্ত এবং সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। এটা শুনে মেসি হেসে উঠেছিল।’
মেসির অমায়িক ব্যবহারের প্রশংসা করে রোবার্তো আরও বলেন, ‘ছবি তোলার পর আমি আর তাকে বিরক্ত না করে দ্রুত সেখান থেকে সরে আসি, যাতে সে নিজের মতো করে তার সময়টুকু উপভোগ করতে পারে। মাঠের বাইরেও মানুষ হিসেবে আমি তাকে ভীষণ পছন্দ করি। সে অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ এবং খুব সুন্দরভাবে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। এটা আমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা।’
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দশ বছর ধরে বসবাস করা রোবার্তো মূলত বাবা ও বন্ধুদের দেখানোর জন্যই ভিডিওটি টিকটকে আপলোড করেছিলেন। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রকাশের মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে তার নিজের প্রোফাইলেই ভিডিওটি আড়াই লাখের বেশি ভিউ হয়েছে। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া পাতা ও সংবাদমাধ্যম ভিডিওটি শেয়ার করে এবং বেশ কিছু কোম্পানি এর স্বত্ব কেনার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করে।