আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমে মেসির বাবার মৃত্যুর খবর

লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবে। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিলেন মেসির বাবা।

ইনফোবে বলছে, শুক্রবার রাত ১০টায় আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি সানাতোরিওতে (ক্লিনিক) তার মৃত্যু হয়। ক্রীড়াভিত্তিক স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা, ব্রিটিশ গণমাধ্যম গোলডটকমসহ আরও কিছু প্রচারমাধ্যমও খবরটি প্রকাশ করেছে ইনফোবের বরাতে। যদিও এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যম বা মেসির পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

মার্কার খবরে বলা হয়েছে, গত জুনে বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কেন কাঁদছিলাম? এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্কই ছিল না। কয়েকটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

মেসির এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়। একাধিক সংবাদমাধ্যম তখন জানায়, তার বাবার শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মেসির আবেগাপ্লুত হওয়ার বিষয়টির সম্পর্ক রয়েছে। তবে হোর্হে মেসির ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছিল।

এরপর ওই সময় মেসির পরিবার একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, ‘মেসি পরিবার জানাতে চায় যে, হোর্হে মেসি বর্তমানে স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় যেসব প্রতিবেদন, গুজব ও জল্পনা ছড়িয়েছে, তাতে মেসি পরিবার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ, একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়কে কেউ কেউ যে সংবেদনশীলতা, সম্মান ও গোপনীয়তার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত ছিল, তা করেননি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘হোর্হে ও তার পুরো পরিবারের প্রতি যে ভালোবাসা, সম্মান ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে হোর্হে এবং তার পরিবারের গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত পরিসর ও বিষয়টির গোপনীয়তা রক্ষা করার অনুরোধ করছি।’

এরপর জুলাইয়ের শেষ দিকে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) অল-স্টার ম্যাচেও খেলেননি লিওনেল মেসি। ধারণা করা হয়, বাবাকে দেখতে তিনি সেখানে যান। কয়েক দিন পর অবশ্য এমএলএসের একটি ম্যাচ দিয়ে আবার মাঠে ফেরেন মেসি।