এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে অভিষেকেই বাজিমাত করেছে ফর্টিস এফসি। প্রথম ম্যাচেই মোহাম্মদ ইব্রাহিমের একমাত্র গোলে কিরগিজস্তানের মুরাস এফসিকে হারিয়ে চ্যালেঞ্জ লিগের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। ঐতিহাসিক এই জয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ফর্টিসের কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার।
কিংস অ্যারেনায় ম্যাচ শেষে কায়সার বলেছেন, 'অনেকে লিখেছেন ফর্টিস পারবে কি না? কিন্তু সবাই ইতিবাচকভাবে অনেক ভালো লিখেছেন। তাই আমি আমার প্লেয়ারদেরকে এটা বলেই উদ্বুদ্ধ করেছি যে, আপনাদের কথাতে একটা জিনিস আসছে, এটা একটা চান্স। আমাদের নিজস্ব এরিয়াতেই, আমাদের নিজস্ব কিংস অ্যারেনাতে কিছু করার এটাই সুযোগ।’
কিরগিজস্তানের খেলোয়াড়দের কাবু করতে টানা ২১ দিন দুপুর ৩টায় কড়া রোদে অনুশীলন করেছে ফর্টিস। এমনকি ম্যাচের সময়ও রাখা হয়েছিল দুপুর ৩টায়। নিজেদের কৌশলের কথা স্বীকার করে কায়সার বলেন, ‘কেন ৩টায়? উত্তর সহজ, ১-০ ফল। এজন্য ৩টায়। গরমে ওরা অভ্যস্ত ছিল না। আমাদের প্লেয়াররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে।’
শুধু গরম নয়, কিংস অ্যারেনার নরম মাঠও ফর্টিসের পরিকল্পনায় কাজে দিয়েছে। কায়সার বলেন, ‘ভিতরে গ্রাউন্ড ছিল অনেক সফট আর উপরে ছিল রোদ। উজবেকিস্তানের ফিজিক্যাল প্লেয়ারদের জন্য এটা ডিফিকাল্ট। কারণ ওরা বেটার গ্রাউন্ডে খেলে। কিন্তু আমাদের বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা বৃষ্টিতে অনেক নরম হয়ে যায়। মাসল বেশি লোড নেয়, ক্র্যাম্প হয়। আমরা যেটা চাইছিলাম স্ট্রং লিডে শুরু করতে, প্লেয়াররা সেটা করেছে।’
খেলোয়াড়দের ওপর অগাধ বিশ্বাস ছিল কায়সারের। ম্যাচের আগে শিষ্যদের শুধু একটি কথাই বলেছিলেন তিনি, ‘তোমরা পরিশ্রম করছো কিন্তু বিশ্বাস করতে হবে যে তুমি ম্যাচটা জিতবে। তুমি যদি বিশ্বাস না করো, কেউ জিতিয়ে দিতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করতে পারলে তোমরা কেন পারবে না?’
ফর্টিসের প্রতি কায়সারের নিজের নিবেদনও এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ক্লাবটির প্রতি তার ভালোবাসার প্রমাণ মিলেছিল গত বছরই। তখন ফর্টিসের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জাতীয় অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রধান কোচ হওয়ার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনা স্মরণ করে কায়সার বলেন, ‘আমি হেড কোচ ক্লাবে। একসাথে দুইজনের ক্ষতি করতে পারবো না। একই দিনে ফোর্টিসে ট্রেনিং করাবো, আবার ন্যাশনাল টিমে ট্রেনিং করাবো; অত যোগ্যতা আমার নেই। আমি জেনারেল সেক্রেটারি, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সবাইকে স্যরি বলেছিলাম।’