তাহলে ফিফার সর্বময় ক্ষমতার কেন্দ্রে কি এবার বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে? জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে যখন বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ মহলে টানাপোড়েন ক্রমে তীব্র হচ্ছে, তখন তার পরবর্তী সময়ের জন্য আগেভাগেই পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে উয়েফা ও তাদের মিত্ররা।
তাদের সবচেয়ে বড় প্রস্তাবটি হচ্ছে ফিফা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আর একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে না। বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বিভিন্ন মহাদেশীয় কনফেডারেশনের মধ্যে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ফিফার সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার নেতৃত্বাধীন একটি জোট। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, তাদের অন্যতম ভাবনা হলো ফিফা প্রেসিডেন্টের পদটি বিভিন্ন মহাদেশীয় কনফেডারেশনের মধ্যে রোটেশনের ভিত্তিতে ভাগ করে দেওয়া। মূল উদ্দেশ্য প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা বিপুল ক্ষমতা কমানো।
বিশেষ করে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়তে বাধ্য হলে তার পরবর্তী সময়ে যেন আর কোনো ফিফা প্রেসিডেন্টের হাতে ইনফান্তিনো কিংবা তার পূর্বসূরিদের মতো অতিমাত্রায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না হয়- সেটিই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে এখনো ফিফার ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ পরিকল্পনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলছে। এই বিরোধ ধীরে ধীরে ইনফান্তিনোকে তার পদ থেকে সরানোর দীর্ঘ লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। তবে সুইস-ইতালিয়ান এই কর্মকর্তা এখনো নিজের অবস্থানে অনড়।
অন্যদিকে উয়েফা ও তাদের মিত্ররা নাকি ইতোমধ্যেই ভাবতে শুরু করেছে—ইনফান্তিনো পরবর্তী ফিফার কাঠামো কেমন হবে। এই সপ্তাহে উয়েফা সুপার কাপ উপলক্ষে ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা সলজবুর্গে জড়ো হয়েছিলেন। সংকট শুরু হওয়ার পর এটাই ছিল প্রথম বড় সুযোগ, যখন সংশ্লিষ্ট নেতারা সরাসরি এক জায়গায় বসে আলোচনা করতে পেরেছেন।
সংকটের সূত্রপাতের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইনফান্তিনোর সেই পরিকল্পনা, যেখানে তিনি বিশ্বকাপের শেয়ার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির লক্ষ্য প্রকাশ করেছিলেন।
সলজবুর্গে উয়েফা সভাপতি অ্যালেক্সান্ডার সেফেরিন বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ নজর কেড়েছে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সভাপতি প্যাট্রিস মোটসেপের উপস্থিতি। কারণ অতীতে এই কনফেডারেশন ইনফান্তিনোকে সমর্থন করেছিল।
সলজবুর্গের আলোচনায় শুধু নেতৃত্ব বদলের বিষয়ই নয়, ফিফার পুরো শাসনব্যবস্থা কেমন হবে তার পরিকল্পনা উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ফিফার প্রশাসনকে অনেকটা শক্তিশালী সিভিল সার্ভিস কাঠামোর মতো করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, উয়েফা ও তাদের মিত্ররা এই সংকটের অন্তত একটি ফল হিসেবে ফিফার নেতৃত্ব ও প্রশাসন কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে চাইছে। ফলে বিষয়টি শুধু একজন প্রেসিডেন্টকে সরানোর লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। উদ্দেশ্য এখন ক্ষমতার কাঠামোটাই বদলে দেওয়া!