ঢাকায় এসে ক্যানিজিয়া বললেন, পেলে-ম্যারাডোনা-মেসি তিন জনই সর্বকালের সেরা  

বাংলাদেশে এসে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে মুগ্ধ দিয়েগো ম্যারাডোনার সতীর্থ আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ক্লদিও ক্যানিজিয়া। বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন, বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা, হামজা চৌধুরী, লিওনেল মেসি ও  ম্যারাডোনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।  

সোমবার (১৭ আগস্ট) ফর্টিস এফসিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ক্যানিজিয়া।  

বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যানিজিয়া বলেন, “বাংলাদেশে আসার পর আমাকে দারুণ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। এখানকার মানুষ অসাধারণ। বাংলাদেশে এসে আমি খুব উপভোগ করছি। কারণ এখানকার মানুষ ফুটবলের প্রতি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলা বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে উপভোগ করে, টেলিভিশনে সেই দৃশ্যগুলো আমি দেখেছি। তাই এখানে এসে এত আর্জেন্টিনা সমর্থক দেখে আমি অবাক হইনি।”  

২০৩০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখা কি সম্ভব—এমন প্রশ্নে ক্যানিজিয়ার উত্তর, “বিশ্বকাপে বাছাই পর্ব পেরোনো সবসময়ই কঠিন। তবে বাংলাদেশের ফুটবলের অগ্রগতি হচ্ছে। আমি আশা করি, গত ১০-২০ বছরে যেভাবে বিশ্বের অনেক জাতীয় দল উন্নতি করেছে, বাংলাদেশও সেভাবে এগিয়ে যেতে পারবে। বিশ্বকাপে এখন ৪৮টি দল খেলছে, ভবিষ্যতে আরও দল যুক্ত হতে পারে। তাই বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখবে না? পথটা সহজ নয়। কোচ, সরকার, সামগ্রিক পরিবেশ এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “এটা দীর্ঘ পথ। শুধু প্রতিভা থাকলেই হবে না, খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে। টেকনিক্যাল দক্ষতার পাশাপাশি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। তবে আমি আশাবাদী।” বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপে খেলার কথা ভাববে না, পালটা প্রশ্নও তোলেন তিনি।   

হামজা চৌধুরী সম্পর্কে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি তাকে (হামজা) চিনি। সে খুব ভালো খেলোয়াড়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা একজন ফুটবলার থাকা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট। আপনার দলের একাধিক খেলোয়াড় যদি ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি কিংবা ইউরোপের ভালো প্রতিযোগিতায় খেলতে পারে, তাহলে তাদের অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্য দেশে খেলোয়াড় রফতানি না করলে উন্নতি করা কঠিন।”  

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় বলেন, “বাংলাদেশের সমর্থকেরা বিশ্বের অন্যতম সেরা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর থেকেই আমি টেলিভিশনে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের দেখেছি। শুরুতে বিষয়টি আমার কাছে পাগলামী মনে হতো। কারণ দুটি দেশ ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অনেক দূরে। অথচ বাংলাদেশের মানুষ আর্জেন্টিনাকে এত ভালোবাসে! আর্জেন্টিনা কোনও ম্যাচে ভালো করলে তারা আনন্দ করে, আবার আমরা বিপদে পড়লে বাংলাদেশের মানুষও কষ্ট পায়। এমন সমর্থন সত্যিই অসাধারণ।”  

মেসি কি ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যানিজিয়া বলেন, “সত্যি বলতে, আমার মনে হয় মেসির জন্য ২০৩০ বিশ্বকাপ খেলা কঠিন হবে। তবে মেসির মতো ফুটবলার চাইলে ৪১, ৪২ কিংবা ৪৩ বছর বয়স পর্যন্ত খেলতে পারেন। সে ফুটবলের একজন জাদুকর। দক্ষতার দিক থেকে সে পারবে। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ভর করবে তার ইচ্ছা ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর।”  

ম্যারাডোনা ও মেসির মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হলে কাকে নেবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তার উত্তর, “আমি একজনকে বেছে নিতে চাই না। পেলে, ম্যারাডোনা ও মেসি—এই তিন জনই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা প্রতিভাদের মধ্যে রয়েছেন। আর তাদের মধ্যে দুজনই আর্জেন্টিনার! আর্জেন্টাইন হিসেবে এটা আমাদের জন্য বিশাল গর্বের বিষয়।”  

২০০২ বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখার ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটা ছিল অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। আমার বিশ্বাস, রেফারির ভুলেই আমাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ারে রেফারিদের অনেক ভুল দেখেছি। ওই ঘটনাটি আমার জন্য মোটেও ভালো ছিল না। তবে আমি বিশ্বাস করি, সেটা আমার ভুল ছিল না।”  

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব পেলে কি রাজি হবেন—এমন প্রশ্নে ক্যানিজিয়ার জবাব, “এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। যদি আসে, অবশ্যই ভেবে দেখবো। যে দল সামনে এগিয়ে যেতে চায় এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়, তাদের সঙ্গে কাজ করা সবসময় আনন্দের। ফুটবলে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সুযোগ সবসময় থাকে। তাই ভবিষ্যতে এমন কিছু হলে কেন নয়?”