আগেও দুই সিজন লোনে বার্সেলোনায় খেলেছিলেন পর্তুগিজ তারকা ফুটবলার হোয়াও কানসেলো। তবে লোনে হওয়ায় চুক্তিবদ্ধ থাকা নিজ ক্লাব সৌদি আরবের আল হিলালে ফিরতে হয়েছে তাকে। কিন্তু বার্সেলোনা তাকে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল, তিনিও আগ্রহী ছিলেন কাতালান ক্লাবে খেলতে। এই আগ্রহ থেকেই ফুটবলে নজিরবিহীন ত্যাগ স্বীকারের পথে হাঁটলেন এবারও ক্যানসেলো।
বার্সেলোনায় ফেরার জন্য কতটা ব্যাকুল ছিলেন, তা প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে, কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দিতে না পারলে তিনি পুরো একটি বছর না খেলে কাটিয়ে দিতেও প্রস্তুত ছিলেন। এর অর্থ হলো আল হিলাল তাকে না ছাড়লে তিনি চুক্তির এক বছর বেতন নেবেন তবে খেলবেন না। আগামী বছর বার্সেলোনায় যোগ দেবেন। তার এই জিদের কাছে পরাজিত হয়ে তাকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে সৌদির ক্লাবটি। আর ক্যানসেলো ভিড়েছেন বার্সেলোনায়, তাও একদম ফ্রিতে।
ক্যানসেলো আরও নিশ্চিত করেছেন, এই দলবদলটি সম্ভব করতে তিনি নিজের বেতন কমাতেও রাজি হয়েছেন।
এই ফুটবলারের নিজের বেতনের একাংশ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এই দলবদলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বার্সেলোনা দীর্ঘ দিন ধরেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে কাজ করছে, যার ফলে খেলোয়াড়দের বেতন তাদের ট্রান্সফার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। খবরে আরও জানা গেছে, আল-হিলালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ক্যানসেলো বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন।
বার্সেলোনায় পৌঁছানোর পর কানসেলো ট্রান্সফার আলোচনার সময় স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকোকে কী বার্তা দিয়েছিলেন, তা ব্যাখ্যা করেন।
এই ডিফেন্ডার জানান, তিনি ডেকোকে বলেছিলেন, তিনি হয় বার্সেলোনায় আসবেন, নয়তো না খেলে নিজের বেতন বুঝে নিয়ে আগের ক্লাবেই পুরো একটি বছর বসে থাকবেন।
ক্লাবটিতে ফেরার তীব্র ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ক্যানসেলো বলেন, আমার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার ছিল—বার্সেলোনা অথবা কিছুই না। হিসাব সহজ।
৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার এখন বার্সেলোনায় তার তৃতীয় মেয়াদে যোগ দিলেন। হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে গত মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর এবারও তার ক্লাবে প্রত্যাবর্তন ঘটলো।